ছাত্র রাজনীতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী, বাংলার মসনদে এবার মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী!

ছাত্র রাজনীতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী, বাংলার মসনদে এবার মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী!

১৯৮৮ সালে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় যে তরুণটি ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি দিয়েছিলেন, আজ প্রায় চার দশক পর তিনিই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধানের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই দীর্ঘ যাত্রাপথ কেবল রাজনৈতিক সাফল্যের খতিয়ান নয়, বরং নিরলস লড়াই, হার না মানা জেদ এবং নিখুঁত রণকৌশলের এক অনন্য দলিল। ছাত্র সংসদ থেকে শুরু করে আজ মহাকরণ বা নবান্নের অলিন্দে তাঁর পদার্পণ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

পৌরসভা থেকে সংসদীয় রাজনীতির চড়াই-উতরাই

শুভেন্দুর রাজনীতির ভিত তৈরি হয়েছিল একেবারে তৃণমূল স্তরে। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০১ সালে তিনি ওই পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। তবে বড় মাপের নির্বাচনে জয় পেতে তাঁকে বেশ খানিকটা অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০১-এর বিধানসভা এবং ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে পরাজয় তাঁকে দমাতে পারেনি, বরং আরও পোড়খাওয়া করে তুলেছিল। ২০০৬ সালে প্রথমবার দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক এবং ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার পর তিনি বাংলার মানুষের কাছে ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিতি পান। পরবর্তীকালে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তমলুকের সাংসদ এবং ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো তাঁকে প্রশাসনিকভাবে অভিজ্ঞ করে তোলে।

ঐতিহাসিক বদল ও মসনদ জয়

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে বড় মোড় ছিল ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর। মেদিনীপুরের মাটিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করা ছিল তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময়। ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ধারাই আরও প্রবলভাবে ফিরে এল। এবার কেবল নিজের গড় নন্দীগ্রাম নয়, বরং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন যে বাংলার জনমত এখন তাঁর পক্ষেই।

শুভেন্দুর প্রশাসনিক প্রভাব ও আগামীর বাংলা

শুভেন্দু অধিকারীর এই জয়ের প্রধান কারণ হলো তাঁর গ্রামবাংলার মাটির সঙ্গে গভীর সংযোগ এবং দক্ষ সাংগঠনিক ক্ষমতা। বিশেষ করে জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিগত জনসংযোগ বিজেপিকে গ্রামস্তরে শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়া রাজ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা নেবে। একজন দক্ষ ও লড়াকু নেতা প্রশাসনিক প্রধান হওয়ায় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি দ্রুত মিটবে এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *