জম্মু ও কাশ্মীরে উপরাজ্যপালের ক্ষমতা বৃদ্ধি, হাতে এল টেলিকম নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। উপরাজ্যপাল (এলজি) মনোজ সিনহার ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে এবার তাঁর হাতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ বা টেলিকম নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার তুলে দেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশিকার কথা জানানো হয়।
টেলিকম আইন ২০২৩-এর ২০(২) ধারা অনুযায়ী, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে সিগন্যাল ইন্টারসেপ্ট করা বা আড়ি পাতা, সাময়িকভাবে টেলিকম পরিষেবা স্থগিত রাখা এবং এনক্রিপ্ট করা বার্তা ডিক্রিপ্ট করার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে উপরাজ্যপাল সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব
কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংবিধানের ২৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে টেলিকম সংক্রান্ত এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মূলত রাজ্য সরকারের অধীনে থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপরাজ্যপালই সেই দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঞ্চলে নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা রুখতে বা গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই কমবে।
নতুন আইনের প্রয়োগ ও সম্ভাবনা
২০২৩ সালের টেলিকম আইনের অধীনে রাজ্য সরকারের যে সমস্ত ক্ষমতা থাকে, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে এখন থেকে সেই ক্ষমতার অধিকারী হবেন উপরাজ্যপাল। এর মাধ্যমে মূলত আধুনিক টেলিকম প্রযুক্তির উপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা অর্জনই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য। সরকারের এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
