জাতপাতহীন সমাজ গড়তে আন্তঃবর্ণ বিবাহের পক্ষে সওয়াল মোহন ভাগবতের

সমাজে বিদ্যমান জাতপাতের ভেদাভেদ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ চিরতরে নির্মূল করতে আন্তঃবর্ণ বিবাহের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর মতে, সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সাধারণ মানুষকে আইন ও সংবিধানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সম্প্রতি কর্নাটকের মহীশূরে জেএসএস মহাবিদ্যাপীঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাজনীতিতে জাতপাতের প্রভাব ও প্রতিকার
ভাগবত সরাসরি অভিযোগ করেন যে, রাজনীতিকরা উন্নয়ন বা কাজের নিরিখে নয়, বরং জাতপাতের সমীকরণকে হাতিয়ার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চান। তিনি বলেন, “রাজনীতিকরা জাতপাতের বিভেদ থেকে ফয়দা তোলেন। কাজ করে ভোট না পেলেও জাতপাতের দোহাই দিয়ে তাঁরা সহজেই ভোটারদের প্রভাবিত করেন।” সংঘ প্রধানের দাবি, সাধারণ মানুষ যদি নিজেরা এই বিভেদ ভুলে যেতে পারেন, তবে রাজনীতিকরাও ভোটের স্বার্থে জাতপাতের ব্যবহার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। যারা আন্তঃবর্ণ বিবাহ করছেন, সমাজকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের সামাজিক পদক্ষেপই রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভাষাগত সচেতনতা
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আরএসএস-এর দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক এম এস গোলওয়ালকারের একটি ঘটনার উদাহরণ টানেন ভাগবত। তিনি জানান, ১৯৪২ সালে মহারাষ্ট্রে হওয়া প্রথম আন্তঃবর্ণ বিবাহে বি আর আম্বেদকরের পাশাপাশি গোলওয়ালকারও শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। গোলওয়ালকার বিশ্বাস করতেন, এই ধরনের বিবাহ ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণের ঊর্ধ্বে সমাজের কাছে একটি বলিষ্ঠ বার্তা দেয়।
একইসঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণ সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন মোহন ভাগবত। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অনেক সময় আমাদের অসতর্ক কথাবার্তা বা ছোট আচরণ অন্যের মনে বৈষম্যের জন্ম দেয়। বড় কোনো ভাষণের চেয়ে ছোট ছোট ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাজে সাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, নিজেদের ভাষা শুদ্ধ করা এবং অপরকে সমান মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই একটি সংহতিপূর্ণ ভারত গড়ে তোলা সম্ভব।
