জুলাইয়ের রাজনৈতিক ঝড়ে কি হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূল! হুঁশিয়ারি দিলেন সুদীপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এবার লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে খোদ দলের অধিকার দাবি করার হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর, তিনিসহ তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) নামক একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে আগামী জুলাই মাসেই আসল তৃণমূল কংগ্রেসের মালিকানা দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। যা লোকসভা ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নেপথ্যের কারণ ও দলবদলের কৌশল
আইনি জটিলতা ও দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে পা বাড়িয়েছে। নিয়মানুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একযোগে দল ছাড়লে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হয় না। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাংসদ রয়েছেন। এই শক্তির ওপর ভর করেই তাঁরা নির্বাচন কমিশন ও আদালতের মাধ্যমে মূল দল এবং প্রতীকের দখল নিতে চান। পরিচিতিহীন একটি দলে সাময়িকভাবে যোগ দেওয়া মূলত আইনি ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে মূল দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সহজ করবে।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিদ্রোহের ফলে দিল্লির দরবারে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় তলানিতে ঠেকবে, তেমনই বাংলার রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে বাধ্য। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা দেশের স্বার্থে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবে কাজ করবেন। এর ফলে লোকসভায় শাসক জোটের শক্তি আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে। জুলাই মাসের আইনি লড়াইয়ের পর বাংলার শাসক দলের রাশ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ।
