৭৪ ফলোয়ারের দলে ২০ তৃণমূল সাংসদ, নেপথ্যে দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচার ছক! – এবেলা

৭৪ ফলোয়ারের দলে ২০ তৃণমূল সাংসদ, নেপথ্যে দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচার ছক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন এবং এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণ প্রকাশ্যে এল। দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্যাঁচ থেকে নিজেদের সাংসদপদ সুরক্ষিত রাখতে সম্পূর্ণ অপরিচিত এবং স্বীকৃতিহীন একটি রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে গেলেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা বসার আবেদন জানিয়েছেন। আগামী দিনে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ জোটের হয়ে কাজ করবেন।

অচেনা এনসিপিআই এবং সাঁকরাইলের অফিস

বিদ্রোহী সাংসদদের এই দলবদলের সিদ্ধান্তে সবথেকে বেশি চমক তৈরি করেছে এনসিপিআই নামক এই দলটির পরিচয়। নির্বাচন কমিশনের খাতায় ২০২৩ সালে এটি ‘রেজিস্টার্ড আন-রেকগনাইজড’ বা স্বীকৃতিহীন রাজনৈতিক দল হিসেবে নথিবদ্ধ হয়। দলটির নিজস্ব কোনও নির্দিষ্ট প্রতীক নেই, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ৭৪। বছর চারেক আগে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি নোটিশ থেকে জানা যায়, হাওড়ার সাঁকরাইলে এই দলটির একটি কার্যালয় রয়েছে। সভাপতি শ্বেলী কুণ্ডু এবং সাধারণ সম্পাদক সৈকত দাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে পেন ও আলোর রশ্মি প্রতীকে দলটি লড়াই করেছিল।

যোগদানের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নাটকীয় দলবদলের মূল কারণ হলো আইনি জটিলতা এড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পদ টিকিয়ে রাখা। দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপ থেকে বাঁচতে দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হয়, যা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মূল তৃণমূল কংগ্রেসের নাম বা প্রতীক নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে, একটি নামগোত্রহীন দলের ছাতার তলায় নিজেদের সংঘবদ্ধ করাটা অত্যন্ত সুকৌশলী পদক্ষেপ। এর ফলে একদিকে যেমন তাঁদের সাংসদপদ আইনিভাবে সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে লোকসভায় শাসক জোট এনডিএ-র শক্তিও একধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *