সব রেকর্ড ভেঙে এখনও অনন্য উচ্চতায় ‘গদর’, আমিশার দাবিতে তোলপাড় বি-টাউন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বলিউডের বক্স অফিস রেকর্ড আর বক্স অফিস কালেকশনের লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে আয়ের অঙ্কের চেয়েও বড় মাপকাঠি হলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি। আর এই জায়গাতেই আধুনিক যুগের সব ব্লকবাস্টার সিনেমাকে পেছনে ফেলে এখনও সিংহাসন ধরে রেখেছে ‘গদর: এক প্রেম কথা’। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনই এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন ছবির নায়িকা আমিশা প্যাটেল। আধুনিক যুগের অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ধুরন্ধর’ও নাকি দর্শকের সংখ্যার বিচারে ‘গদর’-এর রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি।
রোববার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওয়েব ও এআই সার্চের কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেন আমিশা। সেখানে বিভিন্ন ব্লকবাস্টার ছবির আনুমানিক দর্শক উপস্থিতির তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অনিল শর্মা পরিচালিত ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ভারতে ৫.০৫ কোটিরও বেশি দর্শক আকর্ষণ করেছিল। অন্যদিকে, এর সিক্যুয়েল ‘গদর ২’ প্রেক্ষাগৃহে টেনেছিল আনুমানিক ৩.৪০ থেকে ৩.৫০ কোটি দর্শক। এই পরিসংখ্যান শেয়ার করে ক্যাপশনে আমিশা লিখেছেন, ‘আমি ধন্য।’
রেকর্ডের দৌড়ে পিছিয়ে ‘ধুরন্ধর’
বর্তমান সময়ে রণবীর সিং অভিনীত ও আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ভারতীয় সিনেমা জগতের অন্যতম আলোচিত ও সফল নাম। ছবিটির উচ্চমাত্রার অ্যাকশন, দেশাত্মবোধক আবহ এবং গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টিকিট বিক্রির দিক থেকে এটি নতুন রেকর্ড গড়লেও দর্শক সংখ্যার দিক থেকে ‘গদর’-এর চেয়ে বেশ পিছিয়ে।
আমিশার শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ প্রেক্ষাগৃহে চলাকালীন দেশে আনুমানিক ৩.২২ থেকে ৩.৫৬ কোটি দর্শক টেনেছিল। এর পরবর্তী কিস্তি ‘ধুরন্ধর ২’ সব ভাষা মিলিয়ে ৪.৩ কোটিরও বেশি এবং শুধু হিন্দি সংস্করণে ৪ কোটির গণ্ডি পেরিয়েছিল। অর্থাৎ, দুই যুগের দুটি ভিন্ন ব্লকবাস্টারের মধ্যে দর্শক উপস্থিতির ব্যবধানটি স্পষ্ট।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, দুই যুগের প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা এবং টিকিটের মূল্যের পার্থক্যের কারণেই এই রেকর্ডের তারতম্য ঘটেছে। ২০০১ সালে টিকিটের মূল্য কম থাকায় এবং ওটিটি বা পাইরেসির দাপট না থাকায় সাধারণ মানুষ দলে দলে সিনেমা হলে যেতেন। বর্তমান যুগে টিকিটের চড়া মূল্যের কারণে সিনেমা শত কোটি বা হাজার কোটির ক্লাবে দ্রুত পৌঁছালেও, প্রকৃত দর্শক সংখ্যার বিচারে পুরোনো দিনের ছবির রেকর্ড ভাঙা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমিশার এই পোস্টের পর বলিউডে বক্স অফিস সাফল্যের আসল মাপকাঠি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনের সিনেমাগুলোর ব্যবসায়িক মূল্যায়নে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে।
