ঝালমুড়ির ঝাঁঝে কুপোকাত তৃণমূল, মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির অকাল হোলি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই উৎসবে মেতেছে বিজেপি শিবির। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে যাওয়ার পথে গেরুয়া বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি আসনে এগিয়ে থেকে বাংলায় সরকার গড়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত ১০৩টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। জয়ের এই আভাস আসতেই কোলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে উন্মাদনা, যার মধ্যমণি হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রিয় সেই ‘ঝালমুড়ি’।
প্রতিশোধের ঝালমুড়ি ও রাজনৈতিক জয়
নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে প্রবল কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। আজ সেই বিদ্রুপের জবাব দিতেই অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। মুরলীধর সেন লেনে রীতিমতো স্টল বসিয়ে বিলি করা হচ্ছে ঝালমুড়ি। কর্মীদের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা, ‘ঝালমুড়ির ঝাঁঝে উড়ে গেল তৃণমূল’। গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে প্রচারের ফাঁকে মোদী সাধারণ দোকানে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন, যা নিয়ে সরগরম ছিল রাজ্য রাজনীতি। কৃষ্ণনগরের সভায় মোদী নিজেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ৪ মে জয়ের উৎসবে ঝালমুড়ি বিলি হবে। আজকের ফলাফল যেন সেই কথাকেই বাস্তবে রূপ দিল।
জেলায় জেলায় গেরুয়া বিজয়োল্লাস
রাজধানী কোলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলোতেও উৎসবের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। খড়গপুর থেকে ঝাড়গ্রাম, সর্বত্রই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গেরুয়া আবীর খেলায় মেতে উঠেছেন। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি বিরতির প্রভাব হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মিষ্টি বিতরণ ও বাদ্যযন্ত্রের তালে নাচে মেতে উঠেছেন বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যরাও।
বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এবং বিজেপির নিপুণ প্রচার কৌশলকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের মসনদে পরিবর্তনের এই স্পষ্ট সংকেত বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গে ফাটল ধরিয়ে গেরুয়া শিবিরের এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
