ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির ঘোষণাতেও কাটছে না শঙ্কা, হরমুজের নিচে ওত পেতে আছে ভয়ংকর ‘ঘুমন্ত দানব’! – এবেলা

ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির ঘোষণাতেও কাটছে না শঙ্কা, হরমুজের নিচে ওত পেতে আছে ভয়ংকর ‘ঘুমন্ত দানব’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের গন্ধে অবশেষে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবারই ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে আমেরিকা। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী বা জ্বালানি সরবরাহের প্রধান জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দীর্ঘ অচলাবস্থার পর পুনরায় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পরও বিশ্বজুড়ে কাটছে না চরম আশঙ্কার মেঘ। কারণ, হরমুজের জলতলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ওত পেতে রয়েছে অসংখ্য ‘ঘুমন্ত দানব’ তথা মাইন, যা যেকোনো মুহূর্তে ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর ধ্বংসযজ্ঞ।

সংকটের সূত্রপাত ও হরমুজ অবরুদ্ধকরণ

সম্প্রতি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক চরম অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর পালটা জবাব হিসেবে তেহরান বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্য সচল রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, জলপথে শত্রুপক্ষের প্রবেশ রুখতে এই আন্তর্জাতিক প্রণালীর তলদেশে বিছিয়ে দেওয়া হয় অসংখ্য সামুদ্রিক মাইন ও বোমা। বর্তমানে এই প্রণালীর কেবল একটি নির্দিষ্ট ও সংকীর্ণ পথ দিয়ে সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলেও, বাকি অংশ সম্পূর্ণ অনিরাপদ এবং বোমার আতঙ্কে থমকে রয়েছে।

‘ঘুমন্ত দানব’ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

মার্কিন প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো দ্রুত শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত করা এবং মাইন অপসারণের কাজ পরে ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলপথ থেকে এই মাইনগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্বাভাবিক হবে না। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইরান অত্যন্ত এলোমেলোভাবে এবং কোনো সঠিক রেকর্ড বা মানচিত্র ছাড়াই এই মাইনগুলো স্থাপন করেছিল। তদুপরি, সমুদ্রের শক্তিশালী তলদেশীয় স্রোতের কারণে বোমাগুলো তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এই মাইনগুলোর আঘাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো বাণিজ্যিক বা জ্বালানি পরিবাহী জাহাজ নিমেষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি এক নতুন সংকটের মুখে পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ খুললেও এই ‘ঘুমন্ত দানব’গুলোর কারণে জলপথটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *