ডিপফেক রুখতে এবার আদালতের দ্বারস্থ শশি থারুর

এআই (AI) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশি থারুর। নিজের ‘পার্সনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় তিনি দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া নাম, ছবি এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর আধেয় বা কন্টেন্ট ইন্টারনেট থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। শুক্রবার বিচারপতি মিনি পুষ্কর্ণার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
তারকাদের পথেই হাঁটলেন থারুর
প্রযুক্তিগত কারচুপির মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো ভিডিও এবং এআই-মর্ফড কন্টেন্ট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন বিশিষ্টজনেরা। এর আগে অমিতাভ বচ্চন এবং অনিল কাপুরের মতো বলিউড তারকারা তাঁদের নাম, ছবি বা কণ্ঠস্বরের বাণিজ্যিক ও অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধ করতে আদালতের থেকে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বা ‘ইনজাংশন’ আদায় করেছিলেন। শশি থারুরও এখন সেই একই আইনি সুরক্ষা চাইছেন, যাতে তাঁর পরিচিতি ব্যবহার করে কোনো ভুল তথ্য প্রচার বা বাণিজ্যিক ফায়দা তোলা না হয়।
আইনি পদক্ষেপের কারণ ও প্রভাব
আদালতে পেশ করা আবেদনে থারুর অভিযোগ করেছেন যে, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম তাঁর সম্মতি ছাড়াই তাঁর ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা একজন জনপ্রতিনিধির ভাবমূর্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। থারুরের এই আইনি লড়াই ভবিষ্যতে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি একজন লেখক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত থারুরের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
