ডিভোর্স আইনে স্বামী ও স্ত্রীর সমান অধিকার নয় কেন, জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে বড় বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের একটি বিশেষ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(২)(৩) ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে কেবল স্ত্রীরাই বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন, যা স্বামীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই আইনটিকে লিঙ্গ নিরপেক্ষ করার দাবিতে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হলেও বিচারপতিরা সেই দাবি গ্রহণ করেননি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সংবিধান মহিলাদের বিশেষ সুরক্ষার অধিকার দিয়েছে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সংবিধানের ১৫(৩) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্র চাইলে মহিলাদের কল্যাণে ও সুরক্ষায় বিশেষ আইন প্রণয়ন করতে পারে। আদালত মনে করে, এই ধরনের বিশেষ আইনি রক্ষাকবচকে অসাংবিধানিক বলা চলে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইন প্রণেতারা যখন এই নিয়ম তৈরি করেছিলেন, তখন মহিলাদের সামাজিক ও আর্থিক ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই তা করা হয়েছিল।
ব্যক্তিগত আক্রোশ বনাম সাংবিধানিক প্রশ্ন
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পর্যালোচনার পর জানায়, এটি কোনও বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিবাদের জেরে দায়ের করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে দিয়ে বলে যে, সংবিধানের ৩২ ধারা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর চেষ্টা করা অনুচিত। বিচারপতিদের মতে, একজন আইন পড়ুয়া হয়ে এই ধরনের আবেদন করা আইনব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থার প্রতি আদালতের সহানুভূতি থাকলেও তাঁর আলাদা থাকা স্ত্রীর অধিকারকেও খাটো করে দেখা সম্ভব নয় বলে আদালত সাফ জানিয়ে দেয়।
হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(২) ধারার গুরুত্ব
হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(২) ধারাটি বিশেষভাবে বিবাহিত মহিলাদের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এই আইনের আওতায় বিয়ের সময় স্বামীর অন্য স্ত্রী জীবিত থাকা, স্বামীর যৌন অপরাধে লিপ্ত হওয়া কিংবা খোরপোশ প্রদানের নির্দেশের পরও এক বছর সহবাস না হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে স্ত্রীরা ডিভোর্সের বিশেষ সুবিধা পান। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, সংবিধান প্রদত্ত নারী সুরক্ষার বিশেষ আইনি অধিকারগুলো বর্তমান আইনি কাঠামোয় অটুট থাকছে এবং সেগুলোকে বৈষম্যমূলক হিসেবে গণ্য করার অবকাশ নেই। কোনো প্রকার নোটিস জারি না করেই আদালত এই মামলাটি খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
