তড়িঘড়ি দেহ দাহ, নির্মল ঘোষসহ তিন নেতার গ্রেফতারি চাইলেন তিলোত্তমার বাবা

আরজি কর আবহে নতুন মোড় নিয়ে এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিলোত্তমার বাবা। ঘটনার দিন রাতেই তড়িঘড়ি মৃতদেহ দাহ করার নেপথ্যে প্রভাবশালী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তিন নেতার গ্রেফতারি দাবি করেছেন তিনি। শিয়ালদহ আদালতে দায়ের করা এই আবেদনে নাম রয়েছে জলহাটি পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং স্থানীয় নেতা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়েরও।
তথ্য লোপাটের গুরুতর অভিযোগ
তিলোত্তমার পরিবারের দাবি, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সুযোগ নষ্ট করতেই অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, ওইদিন সন্ধ্যায় জলহাটি শ্মশানে দেহ দাহ করার প্রক্রিয়ায় এই তিন নেতা সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী ছিলেন। শ্মশানের শংসাপত্রে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছেন নিহতের বাবা। তাঁদের মতে, এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে প্রমাণ মুছে ফেলার একটি বড় ষড়যন্ত্র।
রাজনৈতিক পুরস্কার ও বিচার বিভাগীয় প্রত্যাশা
এই ঘটনায় তৎকালীন কাউন্সিলর সোমনাথ দে-কে পরবর্তীতে পৌরসভার চেয়ারম্যান করার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল বিরোধী শিবির। অনেকের মতেই, প্রমাণ লোপাটে সহায়তার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তিনি এই পদ পেয়েছেন। তিলোত্তমার বাবার এই আইনি পদক্ষেপের ফলে সিবিআই তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত যদি এই তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত বা গ্রেফতারির নির্দেশ দেয়, তবে আরজি কর মামলার রহস্যভেদে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। এই আবেদনের ভিত্তিতে শিয়ালদহ আদালত এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা রাজ্য।
