পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল, তিস্তা চুক্তির জট কাটতে পারে বলে আশাবাদী বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে ওপার বাংলায় নতুন করে আশার আলো দেখছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা জলবন্টন চুক্তির ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সর্বজনবিদিত। এবার সেই বাধার দেওয়াল সরে যাওয়ায় ঢাকার রাজনৈতিক মহলে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করছে, কলকাতায় নতুন সরকার গঠনের ফলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তিস্তা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
তিস্তা চুক্তির পথে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দলের তথ্য সচিব আজ়িজুল বারি হেলালের মতে, এতদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একগুঁয়েমির কারণেই তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় যে রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা ভেস্তে যায়। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এবং দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক থাকায় এই প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের স্বার্থেই জলবন্টন চুক্তির বাস্তবায়ন জরুরি।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ও প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরেই শেষ হতে চলেছে। এমন এক সন্ধিক্ষণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের অভিযোগ ছিল, পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার কারণে সেদেশের উত্তর জনপদে কৃষি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এবার কলকাতা ও দিল্লিতে একই আদর্শের সরকার থাকায় নীতি নির্ধারণে জটিলতা কমবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আশা, বিজেপি সরকার তিস্তা ব্যারেজ ও বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে দিল্লির সিদ্ধান্তের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করবে। এর ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।
