বিমানে করোনা, এবার কী জলপথে হান্টাভাইরাসের হানা?

বিমানে করোনা, এবার কী জলপথে হান্টাভাইরাসের হানা?

প্রমোদতরীতে প্রমোদভ্রমণের আনন্দ ছাপিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে ডালপালা মেলছে এক নতুন আতঙ্ক। আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে দক্ষিণ আটলান্টিক ভ্রমণে বেরোনো নেদারল্যান্ডের প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’ এখন মারণ হান্টাভাইরাসের হটস্পট। ইতিমধ্যে এই জাহাজে থাকা অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। মৃতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। এই ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

সংক্রমণের উৎস ও মারণ ক্ষমতা

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর বাহিত একটি রোগ। ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে এটি মানবদেহে সংক্রমিত হয়। তবে এমভি হন্ডিয়াসের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হলো এর ‘অ্যানডেস স্ট্রেইন’। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে এই বিশেষ স্ট্রেইনটির হদিস মিলেছে, যা সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে এলে অন্য মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ জায়গায় দীর্ঘক্ষণ আক্রান্তের সঙ্গে থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি না থাকায় দুশ্চিন্তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আমেরিকা মহাদেশে এই ভাইরাসের মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ছড়ানোর আশঙ্কা

জাহাজটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইৎজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক রয়েছেন। এমনকি জাহাজে দুজন ভারতীয় ক্রু সদস্য থাকায় ভারতেও এই সংক্রমণ পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, পেশিতে ব্যথা ও প্রবল শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে নোঙর করেছে এবং যাত্রীদের কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে এই সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। করোনার স্মৃতি উসকে দিয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *