তারাতলা বিপর্যয়ে ফিরহাদের গ্রেফতারির দাবি কুণালের! তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তারাতলায় ১১ জনের প্রাণঘাতী বিপর্যয়ের ঘটনায় এবার সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিপর্যয়ের দায় প্রাক্তন মেয়রের ওপর চাপানোর পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মদন মিত্রকে পাশে নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, বেআইনি নির্মাণ বা নকশা অনুমোদনে প্রাক্তন মেয়রের বিন্দুমাত্র দায় থাকলে তাঁকে অবিলম্বে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া উচিত।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ও কুণালের পাল্টা প্রশ্ন
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কুণাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় একটি নকশা প্রদর্শন করে দাবি করেন, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ওই গুদামের প্ল্যান অনুমোদন করেছিলেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষের যুক্তি, যদি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সত্যিই উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ থাকে, তবে কেন অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। অভিযুক্তরা ‘নতুন তৃণমূল’-এ যোগ দিয়েছেন বলেই কি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে দেরি হচ্ছে, এমন তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ‘কালী’ নামের এক কার্যনির্বাহী মেয়রের প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যা এই বিতর্কে সন্দেহ ও জটিলতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিপর্যয়ের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে সরাসরি উঠে আসছে নিয়মবহির্ভূতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের নকশা অনুমোদন এবং কাঠামোগত দুর্বলতা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রশাসনিক স্তরে বেআইনি নির্মাণের অনুমোদনে দুর্নীতির যে ছবি প্রকাশ্যে আসছে, তা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে। এই বিতর্ক আগামী দিনে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আইনি জটিলতায় পড়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
