তৃণমূলের কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনা উড়ল! কঠিন সময়ে মমতার পাশেই শত্রুঘ্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ঘাসফুল শিবিরের হাত-শিবিরে মিশে যাওয়ার জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। একদিকে যখন সোনিয়া-মমতা এবং রাহুল-অভিষেক বৈঠক জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই তৃণমূলে একাধিক সাংসদের ইস্তফার খবরে দলের অন্দরের অস্থিরতা প্রকাশ্যে এসেছে। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
ভিত্তিহীন গুজব ও কংগ্রেসের অবস্থান
তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার এই জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের খবরের কোনও সত্যতা নেই। দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই বৈঠক মূলত জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কংগ্রেসের এই বিবৃতির ফলে দুই দলের সংযুক্তিকরণের জল্পনার সাময়িক অবসান ঘটল এবং এটি স্পষ্ট হল যে, তারা নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখেই জোটগতভাবে লড়াইয়ের কৌশল নির্ধারণ করছে।
সংকটে মমতার ঢাল শত্রুঘ্ন
দলের অন্দরে যখন একের পর এক নেতার বিদ্রোহের খবর সামনে আসছে, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। নিজেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ বলে ওঠা সমস্ত দাবি নস্যাৎ করে তিনি জানান, তাঁর দুঃসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে ছিলেন, তাই এই কঠিন সময়ে তিনিও নেত্রীর পাশেই অবিচল থাকবেন। দলের প্রতি এই আনুগত্যের পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক সৌজন্যেরও নজির স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ১২ বছরের রেকর্ড মেয়াদের পূর্তিতে তাঁকে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই তৃণমূল সাংসদ। বিরোধী শিবিরে থেকেও তিনি যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে পিছপা হন না, এই পোস্ট তারই প্রমাণ। তবে একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই তিনি তৃণমূল বা মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন না।
