তৃণমূলের গৃহযুদ্ধে বিধানসভায় চরম নাটক, কুণালকে বড়সড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ তীব্র ফাটল এবার প্রকাশ্যেই আছড়ে পড়ল বিধানসভার অন্দরে। দলের ‘আসল’ ও ‘নকল’ শিবিরের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং তাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজ্যপালের জবাবি ভাষণের সময় কালীঘাট শিবিরের কুণাল ঘোষ এবং দলের অন্য অংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগযুদ্ধকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়।
দলীয় কোন্দল ও বিধানসভার বাগযুদ্ধ
এই সংঘাতের মূল কারণ তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট এবং সম্প্রতি ঋতব্রত শিবিরের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা। বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় কুণাল ঘোষ সরাসরি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতকে নিশানা করে নারী নিরাপত্তা ও তাঁর অতীত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পালটা ঋতব্রতও বিধানসভার মেঝেতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের নানা সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। দুই শিবিরের এই আকচাআকচির সুযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেমন কটাক্ষের বাণ ছোড়েন, তেমনই কুণাল ঘোষের এক আর্জির প্রেক্ষিতে বড় আশ্বাস দেন। কুণাল যখন ‘হঠাৎ ভালো সাজা’ তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানান, তখন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে চাল বা ত্রিপল চুরির মতো ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার এই নজিরবিহীন ঘটনার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, প্রধান বিরোধী দলের এই প্রকাশ্য ভাঙন ও দুটি সমান্তরাল শিবিরের লড়াই প্রকারান্তরে শাসক দলকেই বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা দেবে। দ্বিতীয়ত, বিধানসভায় বিরোধী শক্তির এই চরম দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা সরকারের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের কাজকে আরও সহজ করে তুলবে। সর্বোপরি, মুখ্যমন্ত্রীর এই দুর্নীতিবিরোধী অনমনীয় অবস্থানের আশ্বাস এবং কুণাল ঘোষের আকুল আবেদন আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতার ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
