“তৃণমূলের জীবনচক্র শেষ, অন্যের রান্নাঘর শুঁকে দেখে না বিজেপি”, ঋজু-প্রসঙ্গে বিস্ফোরক শমীক – এবেলা

“তৃণমূলের জীবনচক্র শেষ, অন্যের রান্নাঘর শুঁকে দেখে না বিজেপি”, ঋজু-প্রসঙ্গে বিস্ফোরক শমীক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতা ঋজু দত্তের একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হলেও বিষয়টিকে আমল দিতে নারাজ বিজেপি। রবিবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো আগ্রহ নেই। ঋজু দত্তের মন্তব্যকে গুরুত্বহীন দাবি করে তিনি একে শাসকদলের নিজস্ব সমস্যা হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

তৃণমূলের ‘জীবনচক্র’ শেষ হওয়ার দাবি

তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বা ‘লাইফ সাইকেল’ ফুরিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, অন্যের রান্নাঘরে কী রান্না হচ্ছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান করা বিজেপির কাজ নয়। তৃণমূলকে একটি প্রকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবেই বিবেচনা করতে রাজি নন তিনি। শমীকের দাবি, যেকোনো উপায়ে বুথ দখল করে জয়ী হওয়ার যে কৌশল তৃণমূল নিয়েছিল, তা এখন ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাকে তারা একটি ‘খোলা বাজারে’ পরিণত করেছিল বলেই আজ এই পতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রশাসন ও দুর্নীতির প্রশ্নে কড়া সমালোচনা

সংগঠন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, গত সাত বছর ধরে তৃণমূলের রাজনৈতিক সংগঠন আসলে পরিচালনা করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের উপর নির্ভর করেই দলটি এতদিন টিকে ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

পাশাপাশি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধেছেন শমীক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কি সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা কেনা সম্ভব? মহিলাদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টাকে তিনি নারীশক্তির অবমাননা এবং দুর্নীতির নামান্তর বলে অভিহিত করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীকের এই মন্তব্য একদিকে যেমন ঋজু দত্তের অভিযোগ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, অন্যদিকে তৃণমূলের নৈতিক পরাজয়কে তুলে ধরার একটি কৌশল। এই পরিস্থিতির প্রভাবে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *