তৃণমূলের দুর্গে গেরুয়া ঝড়! এক ধাক্কায় ৭% ভোট কমলো শাসকদলের, নবান্ন দখলের পথে রেকর্ড উত্থান বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে জনমতের এক বিশাল মেরুকরণ ঘটেছে। ২০২১ সালে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, এবার সেখানে শতাংশের নিরিখে শাসকদলকে বড় ব্যবধানে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। প্রায় ৮ শতাংশের একটি শক্তিশালী ‘ভোট সুইং’ গেরুয়া শিবিরকে নবান্নের পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস ও বিজেপির উত্থান
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের জনসমর্থনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। ২০২১ সালে দলটির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৮.০২ শতাংশ, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৪০.৮০ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রায় ২৯.৫৪ লক্ষ ভোটার শাসকদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি গতবারের ৩৭.৯৭ শতাংশ ভোটের বৃত্ত ভেঙে এবার ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে। সংখ্যার বিচারে যা প্রায় ৬৩ লক্ষাধিক ভোটের বিশাল বৃদ্ধি। তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তৃণমূলের হারানো ভোটের একটি বড় অংশ সরাসরি বিজেপির দিকে ধাবিত হয়েছে।
বাম-কংগ্রেসের স্থবিরতা ও দ্বিমুখী লড়াইয়ের প্রভাব
রাজ্যের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে পরিচিত বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস এবারও ভোটারদের মনে বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি। সিপিএম এবং কংগ্রেসের মোট ভোট সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি ঘটলেও শতাংশের নিরিখে তাদের অবস্থান আরও সংকুচিত হয়েছে। সিপিএমের ভোট শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৫ শতাংশে এবং কংগ্রেসের ২.৯৭ শতাংশে। এর ফলে নির্বাচনটি কার্যত একটি দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল।
পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব
এই বিশাল রাজনৈতিক রদবদলের নেপথ্যে মূলত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি ধস এবং সেই ভোট বিজেপিতে স্থানান্তরিত হওয়া। দ্বিতীয়ত, বাম-কংগ্রেস কোনো বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে দাঁড়াতে না পারায় বিরোধী ভোট একজায়গায় জমায়েত হওয়া। এবং তৃতীয়ত, ২০২৬ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটদান। নতুন এবং অতিরিক্ত ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের বদলে গেরুয়া শিবিরকে বেছে নেওয়ায় ক্ষমতার পাল্লা শেষ পর্যন্ত বিজেপির দিকেই ঝুঁকেছে। এই ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
