তৃণমূলের শত্রু যখন দল নিজেই, বেইমানি তত্ত্ব নিয়ে বিস্ফোরক কাজল শেখ

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে সরব হলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তৃণমূল নেতা কাজল শেখ। নানুরে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি দাবি করেছেন, বাইরের কোনো শক্তি নয় বরং দলের ভেতরের একাংশের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র কারণেই এই ভরাডুবি। তাঁর মতে, তৃণমূলের পতন ঘটিয়েছে খোদ তৃণমূলেরই একটি অংশ।
নানুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের অভিযোগ
সোমবার ফল প্রকাশের পর থেকেই বীরভূমের নানুর ও কীর্ণাহার সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে আবির শেখ নামে এক তৃণমূল নেতাকে গলা কেটে খুনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন বুথ সভাপতি চান্দু শেখ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হলেও, এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসছে। পুলিশ এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ভেতরের শত্রু ও বেইমানি প্রসঙ্গ
মৃত নেতার বাড়িতে গিয়ে কাজল শেখ অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের দলের একাংশকে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক নেতা-কর্মী দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন বলেই বাংলায় তৃণমূলের এই বিপর্যয়। কাজলের দাবি, যারা হামলা চালাচ্ছে তারা মূলত পূর্বতন সিপিএম কর্মী, যারা বর্তমানে বিজেপির ছত্রছায়ায় এসে হিংসা ছড়াচ্ছে। তবে তাঁর মূল নিশানায় ছিল দলের সেই অংশটি, যারা ভেতরে থেকে সংগঠনকে দুর্বল করেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
কাজল শেখের এই বিস্ফোরক মন্তব্য বীরভূম জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের মতো শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয়ের দায় এখন কার ওপর বর্তাবে, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত আর অন্যদিকে দলের নিজস্ব নেতাদের মধ্যে বেইমানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আগামী দিনে এই ‘শুদ্ধিকরণ’ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোই জোড়াফুল শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
