‘তোমাদের দিদি সর্বদা সঙ্গে আছি’, সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ মমতার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি পুলিশের হাতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতার গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তিনি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে, দেশের যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে আশ্বস্ত করে মমতা নিজের বার্তায় স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “তোমাদের দিদি আজ এবং সর্বদা তোমাদের সঙ্গে আছেন।”
কেন গ্রেফতার সিজেপি নেতারা?
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সিজেপি-র ১৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর অনুমতি ছাড়াই যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশ করে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। এই ঘটনার জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁরা বর্তমানে তিহার জেলে রয়েছেন। এছাড়া দলের অপর সদস্য অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে আগামী ছয় মাস শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুচলেকা দিতে হয়েছে।
মমতার নিশানায় বিজেপি সরকার
সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসছে এবং এই লড়াই থামিয়ে দেওয়া চলবে না। তাঁর মতে, সিজেপি নেতাদের এই গ্রেফতারির মাধ্যমে কেবল কয়েকজন নির্দিষ্ট নেতাকে নয়, বরং গোটা তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার গভীর চেষ্টা চলছে।
কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে মমতা আরও অভিযোগ করেন, দেশের নানা প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ পুলিশি ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য গঠিত সরকার এই মূল নীতি ভুলে গেলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ একসময় প্রশ্নের মুখে পড়ে, এমন মন্তব্যও করতে শোনা যায় তৃণমূল নেত্রীকে। বার্তার একেবারে শেষে তিনি ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।
সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারি এবং এর প্রতিবাদে মমতার এই কড়া অবস্থান— সবমিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
