দুর্গাপুরে সুলভ শৌচাগার ও শিশু উদ্যান দখলমুক্ত করল বিজেপি! – এবেলা

দুর্গাপুরে সুলভ শৌচাগার ও শিশু উদ্যান দখলমুক্ত করল বিজেপি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দুর্গাপুরের গোপালমাঠ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দুর্গাপুর নগর নিগমের একটি কমিউনিটি শৌচালয় এবং একটি শিশু উদ্যান অবশেষে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দখলে থাকা এবং তালাবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকা এই সরকারি সম্পত্তি দুটি উদ্ধার করতে রবিবার সকালে অভিযানে নামেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে শৌচাগারটি খোলার পাশাপাশি পাশের শিশু উদ্যানটিও শিশুদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

দখলদারি বনাম জনভোগান্তি

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মিত এই কমিউনিটি শৌচালয়টি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হলেও এটি মূলত তালাবন্দি থাকত এবং শুধুমাত্র তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা বিশেষ কিছু অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। এর ফলে বাসস্ট্যান্ডে আসা দূরদূরান্তের যাত্রী, বিশেষ করে নারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিলেন। বারবার শৌচাগারটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। একই পরিস্থিতি ছিল পাশের শিশু উদ্যানটিরও, যা দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আগাছায় ভরে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। এই দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছিল।

তালা ভেঙে স্বচ্ছতা অভিযান

রবিবার সকালে জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি সুমন গোপের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা গোপালমাঠ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে তাঁরা হাতুড়ি দিয়ে শৌচালয়ের তালা ভেঙে দরজা খুলে দেন। কেবল দখলমুক্ত করাই নয়, এরপর বিজেপি কর্মীরা ঝাঁটা হাতে শৌচাগার চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমে পড়েন। একই সাথে বন্ধ থাকা শিশু উদ্যানটির গেট খুলে দিয়ে ভেতরের আগাছা পরিষ্কার করা হয়, যাতে শিশুরা সেখানে আবার খেলাধুলা করতে পারে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সরকারি অর্থায়নে তৈরি সম্পত্তি সাধারণ মানুষের স্বার্থেই ব্যবহার হওয়া উচিত, কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে নয়। দীর্ঘদিন প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকারি সম্পদ রাজনৈতিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করার এই ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *