দেশ চালানো আপনার সাধ্যের বাইরে, মোদীর ৭ আবেদনকে ব্যর্থতার দলিল বলে তোপ রাহুলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তেলেঙ্গানায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর প্রতি সাতটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমানো, এক বছর সোনা না কেনা, বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে দেশে ভ্রমণ এবং সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা এটিকে দেশহিত নয়, বরং সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন।
রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে ‘উপদেশ’ নয়, বরং ১২ বছরের অপশাসনের ‘ব্যর্থতার প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর দেশের পরিস্থিতি এমন কেন হলো যে, জনগণকে কী কিনতে হবে বা কোথায় যেতে হবে তা সরকার ঠিক করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, নিজের দায়বদ্ধতা এড়াতেই প্রধানমন্ত্রী বারবার সাধারণ মানুষের ওপর ত্যাগের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন। রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দেশ চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না।
সংশয় ও সম্ভাব্য প্রভাব
কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরমও এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকার কেন এমন অস্বাভাবিক আবেদন করতে বাধ্য হলো, তা দেশবাসীর জানা প্রয়োজন। এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে সোনা কেনা কমানো বা বিদেশ যাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো পরামর্শ দেওয়ার অর্থ হলো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কোনো না কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। খাদ্যশস্য ও জ্বালানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি বা সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জনমনে এই বার্তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
