নেড়া মাথায় মেলেনি হাজিরা, বান্ধবীর চুলে প্রযুক্তির চোখ ফাঁকি দিলেন ১০০ দিনের শ্রমিক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মন্দিরে গিয়ে মাথা মুণ্ডন করে কাজে যোগ দিতে এসেই চরম বিপাকে পড়েছিলেন তেলেঙ্গানার মাহবুবাবাদ জেলার ১০০ দিনের কাজের শ্রমিক শ্রীনিবাস। মাথা কামানোর ফলে তাঁর মুখের আদল বদলে যাওয়ায় কাজের জায়গায় থাকা স্বয়ংক্রিয় ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাপটি কিছুতেই তাঁর হাজিরা নথিভুক্ত করছিল না। প্রযুক্তির এই জটিলতা কাটাতে শেষ পর্যন্ত এক অভাবনীয় ও চতুর কৌশল বেছে নেন ওই শ্রমিক, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বান্ধবীর চুলে মুশকিল আসান
মাহবুবাবাদ জেলায় সম্প্রতি ১০০ দিনের কাজের (মনরেগা) শ্রমিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপের ক্যামেরার সামনে মুখ দেখিয়ে শ্রমিকদের হাজিরা দিতে হয়। শ্রীনিবাস যখন নেড়া মাথায় হাজির হন, তখন অ্যাপটি তাঁকে চিনতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বারবার চেষ্টা করেও সুপারভাইজার যখন ব্যর্থ হন, তখন সহায়তায় এগিয়ে আসেন এক নারী সহকর্মী। তিনি শ্রীনিবাসের মাথার পেছনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল এমনভাবে শ্রীনিবাসের মাথায় মেলে ধরেন, যেন মনে হয় সেগুলো শ্রীনিবাসেরই চুল। এই চতুর কৌশলেই কেল্লাফতে হয় এবং অ্যাপটি মুহূর্তের মধ্যে তাঁর হাজিরা গ্রহণ করে।
প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও প্রভাব
এই ঘটনাটি যেমন রসাত্মক, তেমনই এটি সরকারি কাজে ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রযুক্তির বড়সড় ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মানুষের মুখের সামান্য পরিবর্তনে যদি প্রযুক্তি বিভ্রান্ত হয়, তবে গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ ও প্রান্তিক শ্রমিকেরা নিয়মিত হাজিরা এবং ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে, সামান্য চুলের কারসাজিতে অ্যাপকে যেভাবে ফাঁকি দেওয়া গেল, তাতে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে গেছে।
