নৈহাটির বড়মা মন্দিরে অবসান ঘটছে ভিআইপি সংস্কৃতির, বিধায়কের নির্দেশে ভাঙল পরিচালন কমিটি – এবেলা

নৈহাটির বড়মা মন্দিরে অবসান ঘটছে ভিআইপি সংস্কৃতির, বিধায়কের নির্দেশে ভাঙল পরিচালন কমিটি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নৈহাটির ঐতিহাসিক ও জাগ্রত বড়মা মন্দিরে দীর্ঘদিনের চেনা ছবি এবার বদলাতে চলেছে। বন্ধ হতে চলেছে বিশেষ সুবিধাভোগী বা ‘ভিআইপি কালচার’। এখন থেকে আর কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নয়, সাধারণ পুণ্যার্থীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েই দর্শনার্থীদের বড়মা দর্শন করতে হবে। নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের বর্তমান পরিচালন কমিটি। ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আগামী জুন মাসের শুরুতে স্থানীয় শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক নতুন কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার প্রয়াস

নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে পরিচালিত বিদায়ী ১৬ জনের এই কমিটিতে বিদায়ী বিধায়ক, শাসকদলের কাউন্সিলরের পরিবারের সদস্য এবং সাংসদ ঘনিষ্ঠদের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, মন্দিরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বড়মা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। মন্দির চত্বরকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেই এই সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্টজনদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্যই দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করবেন।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

এই বড়িস্কার ও পরিবর্তনের প্রধান কারণ হলো সাধারণ ভক্তদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং হয়রানি। বিশেষ ব্যক্তিদের বাড়তি সুবিধা দিতে গিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ পুণ্যার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। নতুন নিয়মে সাংবিধানিক পদাধিকারী এবং উচ্চ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউই কোনো বাড়তি সুবিধা পাবেন না।

শতবর্ষ প্রাচীন এই মন্দিরে এখন শুধু দীপান্বিতা কালীপূজাই নয়, বরং সারা বছরই উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, হুগলি ও কলকাতা থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধ হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের হয়রানি যেমন কমবে, তেমনই পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের সামাজিক সমতা বজায় থাকবে। উপচে পড়া ভিড় সুশৃঙ্খলভাবে সামলানোর জন্য ইতিমধ্যেই দর্শনার্থী ও পুজো দেওয়ার জন্য পৃথক লাইনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে মন্দিরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও ভক্তদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *