পরাজয়ের ধাক্কা সামলে এবার রাজপথে মমতা, রানি রাসমনিতে মহাধরনার ডাক তৃণমূলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক এক মাস পর আবারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে সক্রিয় হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে আগামী ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে একদিনের প্রতীকী অবস্থান ধরনায় বসছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই তৃণমূলের এই কর্মসূচি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও মমতার জবাব
নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না, তা নিয়ে সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভ ও প্রশ্ন জমতে শুরু করেছিল। একাধিক স্তরের নেতা প্রকাশ্যে এই নিয়ে মুখ খোলার পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী ২ জুন সকাল দশটা থেকে রানি রাসমণি রোডে এই প্রতিবাদী অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হবে। কর্মসূচির শুরুতে দলের অন্যান্য শীর্ষ সারির নেতারা উপস্থিত থাকলেও, দুপুরের দিকে ধরনা মঞ্চে যোগ দেবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীদের ওপর যে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ, তার বিরুদ্ধেই এই মঞ্চ থেকে সোচ্চার হবেন নেত্রী।
একই দিনে ময়দানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনা মঞ্চে থাকবেন, ঠিক একই দিনে অর্থাৎ ২ জুন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে যাচ্ছেন। ভোট-পরবর্তী হিংসায় তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বীরভূমের নানুর পরিদর্শনে যাবেন তিনি। সেখানে আক্রান্ত ও আহত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন অভিষেক।
রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি লড়াই
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তিনি নিজেই আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে গিয়ে এই বিষয়ে সওয়াল করেছেন। যদিও সেখানে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে হাইকোর্টে আইনি লড়াই এবং অন্যদিকে রাজপথে ধরনা ও জেলা সফরের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্ব কর্মীদের এই বার্তা দিতে চাইছে যে, পরাজয়ের পরেও দল তাঁদের পাশে রয়েছে। এই জোড়া কর্মসূচি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
