পাকিস্তানি সেনার চরম অত্যাচার! বেলুচিস্তানে জারি ১৪৪ ধারা, এক মাসে খতম ৩৫ বিদ্রোহী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান ক্রমশ দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেখানে চলমান তীব্র অসন্তোষ ও সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে এবার পুরো প্রদেশে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে বেলুচিস্তান সরকার। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিন পুরো প্রদেশে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, সমাবেশ এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীদের একের পর এক প্রাণঘাতী হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই মূলত পাকিস্তান প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ
বিদ্রোহীদের গতিবিধি স্তিমিত করতে এবং ছদ্মবেশ ধারণ রোধে এবার বেশ কিছু ব্যতিক্রমী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুরো প্রদেশে যেকোনো পাবলিক প্লেসে মাস্ক, মাফলার বা অন্য কোনো উপায়ে মুখ ঢাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে অপরাধ করতে না পারে। এছাড়া প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন, মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য আরোহী বহন, গাড়িতে কালো গ্লাস ব্যবহার এবং অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালানোও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে।
সহিংসতার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বেলুচিস্তানে এই কঠোর সামরিক ও প্রশাসনিক অবস্থানের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বড় সহিংস ঘটনা। গত সপ্তাহে বারখান জেলায় বিদ্রোহীদের সাথে এক অভিযানে একজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ পাঁচ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এর আগে এপ্রিল মাসে চাগাই জেলায় একটি তামা ও সোনা খনি প্রকল্পের ৯ জন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র হামলাকারীরা। জবাবে পাকিস্তানি সেনারা গত ১৩ মে থেকে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে ৩টি গোপন ঘাঁটি ধ্বংস এবং ৩৫ জন বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করেছে। এই দমনপীড়নের ফলে সাময়িকভাবে বিদ্রোহ দমনের চেষ্টা করা হলেও, স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে যা অঞ্চলটিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- পুরো বেলুচিস্তান প্রদেশে আগামী ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- পরিচয় গোপন রাখা ঠেকাতে যেকোনো পাবলিক প্লেসে মাস্ক বা মাফলার দিয়ে মুখ ঢাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীদের হামলায় একজন মেজরসহ ৫ সেনা এবং খনি প্রকল্পের ৯ কর্মী নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত এলো।
- পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত ১৩ মে থেকে চলা এক বড় অভিযানে ৩৫ জন বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
