পাথুরে সেনাদলের বেষ্টনী, ২২০০ বছরের প্রাচীন চিনের রাজকীয় সমাধি কেন খুলতে ভয় পাচ্ছেন গবেষকরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চিনের প্রথম সম্রাট কুইন সি হুয়াং-এর ২২০০ বছর পুরনো সমাধিটি প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে অন্যতম এক রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটির নিচে এক বিশাল প্রাসাদ এবং অপার ধনসম্পদ নিয়ে গড়ে ওঠা এই সমাধিক্ষেত্রটি ১৯৭৪ সালে ভুলবশত আবিষ্কার করেছিলেন স্থানীয় কিছু কৃষক। চিনের এই প্রথম সম্রাটের সমাধি ঘিরে পাহারা দিচ্ছে হাজার হাজার মাটির ও পাথরের তৈরি সৈন্য, যা ‘টেরাকোটা আর্মি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পাওয়া এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সম্রাটের মূল কক্ষটি এখনো খোলার সাহস করতে পারেননি গবেষকরা।
মৃত্যুফাঁদ ও বিষাক্ত পারদের আতঙ্ক
প্রাচীনকালে রাজকীয় সমাধি সুরক্ষিত রাখতে এবং চোর-ডাকাতদের হাত থেকে ধনসম্পদ রক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের মরণফাঁদ তৈরি করা হতো। চিনের বিখ্যাত ঐতিহাসিক সিমা কিয়ানের প্রাচীন নথি অনুযায়ী, সম্রাট কুইন সি হুয়াং-এর সমাধির ভেতর স্বয়ংক্রিয় তীর-ধনুকের ব্যবস্থা রাখা রয়েছে, যা কোনো অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করলেই সচল হয়ে উঠবে। এর চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হলো বিষাক্ত পারদের প্রবাহ। সমাধিটির অভ্যন্তরে চিনের মূল নদীগুলোর আদলে তৈরি কৃত্রিম জলাধারে জলের পরিবর্তে তরল পারদ ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান যুগের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাতেও সমাধি সংলগ্ন মাটিতে মারাত্মক মাত্রায় পারদের উপস্থিতি মিলেছে। এই পারদ মিশ্রিত বাতাসে শ্বাস নিলে মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২২০০ বছর পরেও এই বিষাক্ত পরিবেশ একইভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
ঐতিহাসিক ক্ষতি ও লোকবিশ্বাসের চাপ
কেবলমাত্র শারীরিক বিপদের আশঙ্কাই নয়, ঐতিহাসিক সম্পদ নষ্ট হওয়ার ভয়ও গবেষকদের হাত গুটিয়ে রাখতে বাধ্য করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে ভেতরের প্রাচীন পোশাক, মৃৎপাত্র এবং অন্যান্য অমূল্য শিল্পকর্ম অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। আচমকা বাইরের বাতাস ও আলোর সংস্পর্শে এলে সামান্য অসতর্কতায় এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো চিরতরে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক আবেগ জড়িয়ে রয়েছে এই সমাধির সঙ্গে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, প্রাচীন রাজকীয় সমাধি অপবিত্র করলে অভিশাপ নেমে আসতে পারে। ফলে স্থানীয় মানুষের ভাবাবেগকে সম্মান জানানোও প্রত্নতত্ত্ববিদদের জন্য একটি বড় বিষয়।
এই পরিস্থিতিতে গবেষকরা বর্তমানে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনো উন্নত প্রযুক্তি বা রোবোটিক ব্যবস্থা যা বাইরে থেকেই ভেতরের নিখুঁত চিত্র তুলে ধরতে পারবে অথবা মরণফাঁদগুলো নিষ্ক্রিয় করতে পারবে, তা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রাচীন রহস্যের দুয়ার বন্ধই থাকছে।
