পিঠ পিছে ষড়যন্ত্র? আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি চীনের!

ইরানকে সামরিক সহায়তা নিয়ে জল্পনা; ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল চীন

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে সামরিক সহায়তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চীন ও আমেরিকার মধ্যে এই কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।

ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে উত্তাল বেজিং

ইরানকে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে চীন সাহায্য করছে বলে যে প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেজিং। চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘সাজানো গল্প’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’-এর একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, তেহরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নজর রাখতে চীনের ‘TEE-01B’ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই চীন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

ট্রাম্পের হুমকি এবং চীনের পাল্টা চ্যালেঞ্জ

এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের ওপর সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য আছে যে চীন ইরানকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে, ইরানকে সহায়তা করলে চীনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি কর আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর জবাবে চীন স্পষ্ট করেছে, মিথ্যে অজুহাতে শুল্ক বাড়ানো হলে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; বরং উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কূটনৈতিক অবস্থানের জটিল সমীকরণ

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান থেকে জ্বালানি তেলের চাহিদার কারণে তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হলেও বেজিং আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। চীন সম্ভবত নিজেকে নিরপেক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন দাবি করতে পারে যে তারা ইরানকে কেবল আত্মরক্ষার সরঞ্জাম দিচ্ছে, যা যুদ্ধের জন্য আক্রমণাত্মক কোনো সহায়তা নয়। এই কৌশলগত অবস্থান দিয়ে চীন মার্কিন প্রেশার কমানোর চেষ্টা করতে পারে।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ও আমেরিকার শর্ত

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার মাঝে আলোচনার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই পাকিস্তানের মাটিতে দুই পক্ষ পুনরায় মুখোমুখি হতে পারে। তবে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ওয়াশিংটন দুটি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে:

পারস্য উপসাগরের অত্যাবশ্যকীয় জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো বাধা দিতে পারবে না। অন্যথায় ইরানের বাণিজ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসবে।
ইরানি প্রতিনিধি দলের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা থাকতে হবে। বিশেষ করে দেশটির সামরিক শাখা ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’-এর অনুমোদন ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজি নয় আমেরিকা।

এক ঝলকে

ইরানকে সামরিক ও স্যাটেলাইট সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করল চীন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে চীনের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ কর আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চীন নিজেদের নিরপেক্ষ ও আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
আমেরিকা ও ইরান আলোচনার জন্য নতুন করে মুখোমুখি হতে পারে পাকিস্তানের মাটিতে।
আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা এবং প্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা—এই দুই শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *