ভোটের আগে রণক্ষেত্র বাংলা! কোন জেলায় কত কো ম্পা নি বাহিনী? প্রকাশ্যে কমিশনের তালিকা!
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে বাংলায় বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের
২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাজুড়ে এখন থেকেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ভোটদান প্রক্রিয়াকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ছে বাংলা
নির্বাচনের প্রথম ধাপ থেকেই রাজ্যকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলতে চায় কমিশন। বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত রাজ্যের গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং অতীতের নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস পর্যালোচনার ভিত্তিতেই বাহিনী মোতায়েনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। অবাধ ভোটাধিকার প্রয়োগে ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
কোন জেলায় নজর বেশি?
কমিশনের পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বাহিনীর বন্টন করা হবে:
- মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম: এই দুই জেলাকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং অতীতের রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস বিবেচনা করে এখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
- উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মহানগর সংলগ্ন এই দুই জনবহুল জেলায় কয়েকশ কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি থাকবে।
- বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া: জঙ্গলমহল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন নজরদারির ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে কোনো রকম ত্রুটি রাখতে চাইছে না প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের দিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন জানিয়েছে, কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো বা বুথ দখলের মতো ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ ফেরাতে ইতিমধেই রাজ্যের নানা প্রান্তে বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়ে গেছে।
এক ঝলকে
- বাহিনীর সংখ্যা: গতবারের তুলনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
- নিরাপত্তা বেষ্টনী: প্রতিটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে মোতায়েন থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
- বিশেষ নজরদারি: স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ড্রোন ও রুট মার্চের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক கண்காணிণ চলবে।
- কমিশনের লক্ষ্য: যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
