পিঠের ব্যথায় কিডনি নষ্ট? এই লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন!

পিঠে ব্যথা মানেই কি কিডনির সমস্যা? যেভাবে নিজেই যাচাই করবেন লক্ষণগুলো
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পিঠ বা কোমরের ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা বা ভুল ভঙ্গিতে ভারী কিছু তোলার কারণে এই ব্যথা অনুভূত হয়। তবে সাধারণ মানুষ অনেক সময় ব্যাক পেইনকে কিডনির সমস্যার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, পিঠের সব ব্যথা কিডনি রোগের লক্ষণ নয়। তবে ব্যথার ধরন ও অবস্থান বুঝে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কিডনির ব্যথা চেনার উপায়
কিডনির সমস্যায় হওয়া ব্যথা সাধারণ মাসল ক্র্যাম্প বা মেরুদণ্ডের ব্যথার চেয়ে আলাদা। কিডনির ব্যথা সাধারণত পিঠের নিচের দিকে বা মাঝ বরাবর অনুভূত হয় না। বরং এর অবস্থান হয় পাঁজরের ঠিক নিচে এবং শিরদাঁড়ার দুই পাশের যেকোনো একটি অংশে।
এই ব্যথার প্রকৃতি অনেকটাই ভিন্ন। এটি সাধারণত একটানা অনুভূত হয় এবং শরীর নাড়াচাড়া বা অবস্থান পরিবর্তনের সাথে এর তীব্রতা কমে না। এটি ভোঁতা বা তীব্র মোচড় দেওয়া ব্যথা হিসেবে দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় কুঁচকি বা তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যান্য সহযোগী উপসর্গসমূহ
কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে সাধারণত কেবল পিঠেই ব্যথা থাকে না, বরং শরীরের আরও কিছু লক্ষণ বা অস্বস্তি প্রকাশ পায়। যেমন:
- প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন আসা বা প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা দেওয়া।
- ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া অথবা প্রস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি বোধ করা।
- শরীর বা হাত-পা, বিশেষ করে চোখের নিচে ফোলাভাব লক্ষ্য করা।
- সারাদিন অকারণে ক্লান্তি অনুভূত হওয়া, বমি ভাব এবং অনেক সময় মৃদু থেকে তীব্র জ্বর আসা।
সাধারণ ব্যাক পেইন থেকে পার্থক্যের কারণ
যদি ব্যথা মেরুদণ্ডের মাঝ বরাবর হয় এবং ভারী জিনিস তোলা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা বসার পর এটি তীব্র হয়, তবে তা সাধারণত পেশি বা হাড়ের সমস্যার লক্ষণ। সাধারণ ব্যাক পেইন বিশ্রাম নিলে বা ব্যথানাশক মলম ব্যবহারের ফলে কমে আসে। কিন্তু কিডনিজনিত ব্যথার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিগুলো কাজ করে না।
সতর্কতা ও করণীয়
নিজের ইচ্ছেমতো পেইনকিলার খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ব্যথার উৎস নিশ্চিত করতে অবহেলা না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাধারণ ইউরিন টেস্ট বা আল্ট্রাসাউন্ড করার মাধ্যমে ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব। সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন এবং শরীরের ছোট ছোট সংকেতগুলোর প্রতি যত্নশীল হন।
এক ঝলকে
- ব্যথা পাঁজরের নিচে বা শিরদাঁড়ার পাশে হলে সতর্ক হোন।
- নড়াচড়া করলেও ব্যথা না কমলে তা কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
- প্রস্রাবে পরিবর্তন বা জ্বালাপোড়া কিডনির রোগের ইঙ্গিত দেয়।
- ভুলবশত পেইনকিলার খাওয়া কিডনির জন্য বিপজ্জনক।
- ব্যথার কারণ শনাক্ত করতে ইউরিন টেস্ট বা আল্ট্রাসাউন্ড জরুরি।
