‘প্রতীক চাওয়ার প্রশ্নই নেই, আমরাই আসল তৃণমূল!’ সিইও দফতর থেকে বড় দাবি ঋতব্রতর – এবেলা

‘প্রতীক চাওয়ার প্রশ্নই নেই, আমরাই আসল তৃণমূল!’ সিইও দফতর থেকে বড় দাবি ঋতব্রতর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: ‘আসল তৃণমূল’ কে? দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে থাকবে? বঙ্গ রাজনীতিতে এখন এই তরজাই তুঙ্গে। এর মাঝেই মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে গিয়ে জল্পনা আরও উসকে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কি দলের নাম ও প্রতীক দাবি করতেই কমিশনে গেলেন তাঁরা? জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ঋতব্রতর স্পষ্ট জবাব, তাঁরাই এখন আসল তৃণমূল!

‘আমরাই তৃণমূল, তাই আলাদা করে প্রতীক চাইব না’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঋতব্রত। দলের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, “অরূপ রায়কে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচন করার পর আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরাই তৃণমূল। তাই আলাদা করে দলের নাম বা প্রতীক চাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” অর্থাৎ, ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তাঁরাই যে ময়দানে থাকছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছেন তিনি।

কীভাবে তৈরি হলো এই পরিস্থিতি?

গত কয়েকদিনে তৃণমূলের অন্দরে ঘটে গিয়েছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক রদবদল। একদিকে বিদ্রোহীদের নতুন সংগঠন, অন্যদিকে পুরোনো শিবিরের পাল্টা দাবি:

  • বিদ্রোহীদের সম্মেলন: সোমবার নিউটাউনের একটি হোটেলে বিদ্রোহী নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে অরূপ রায়কে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বাদ দিয়েই ৩০ সদস্যের এই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়।
  • মমতার পাল্টা চিঠি: এই ঘটনার পরই মঙ্গলবার ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ জনের সেই কর্মসমিতির তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজের এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী রূপরেখা কী?

এই সংঘাতকে ‘একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সমবেত লড়াই’ বলে আগেই আখ্যা দিয়েছিলেন ঋতব্রত। তিনি জানিয়েছেন, বিধানসভার চলতি অধিবেশন শেষ হলেই বিদ্রোহী শিবিরের রাজ্য কমিটি ও জেলা সংগঠনগুলি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তৈরি করা হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির পর সিইও দফতরে ঋতব্রতদের এই আত্মবিশ্বাসী দাবি প্রমাণ করছে, দলের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি আরও দীর্ঘ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *