প্রথমে পঙ্গু করার ছক, পরে পাহাড় থেকে ফেলে খুন! কেতন হত্যায় পুলিশের হাতে শিউরে ওঠার মতো তথ্য – এবেলা
July 21, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
পুনের বহুল আলোচিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় (লোহাগড় দুর্গ) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে রোমহর্ষক সব তথ্য। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং চেতন চৌধুরীর প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেতনকে খুন করা ছিল না। বরং, তাঁকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার ভয়ংকর ছক কষেছিল তারা!
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি একনজরে:
- দুর্ঘটনার সাজানো নাটক: পুলিশের দাবি, সিয়া ও চেতনের প্রথম প্ল্যান ছিল এমন একটি পথ দুর্ঘটনা বা ডাকাতির নাটক সাজানো, যাতে কেতনের হাত-পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। সিয়ার ধারণা ছিল, কেতন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে পরিবারের লোকজনকে বিয়ে ভাঙতে রাজি করানো অনেক সহজ হবে।
- গুগলে ‘স্লো পয়জন’ খুঁজত সিয়া: পঙ্গু করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে তারা হত্যার ছক কষে। এমনকী, খুনকে পুরোপুরি দুর্ঘটনা হিসেবে সাজাতে এবং প্রমাণ লোপাট করতে সিয়া গুগলে এমন ‘ধীরগতির বিষ’ বা স্লো পয়জন সম্পর্কে সার্চ করেছিল, যা ফরেন্সিকে সহজে ধরা পড়ে না।
- পাহাড় থেকে ফেলার রিহার্সাল: খুনের জায়গা হিসেবে লোনাভালার টাইগার পয়েন্ট, ভিসাপুর ফোর্টের মতো একাধিক জায়গা ঘুরে লোহাগড় দুর্গকেই বেছে নেয় তারা। শুধু তাই নয়, ১৪ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে পুনের বেভারলি হিলস এলাকায় রীতিমতো এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মহড়াও (Rehearsal) দিয়েছিল অভিযুক্তরা।
- বারবার ব্যর্থতা ও চূড়ান্ত পরিণতি: ৩১ মে এবং ১৪ জুন লোহাগড় দুর্গে গিয়েও সুযোগের অভাবে বা ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসে সিয়া। ১৪ জুন সে ‘সাপ দেখেছি’ বলে মিথ্যা অজুহাত দেয়। এদিকে ১৯ জুন মহাবালেশ্বরে সিয়ার জন্মদিন পালনের প্ল্যান করেছিলেন কেতন। সেই ট্রিপ এড়াতেই ১৮ জুন তড়িঘড়ি লোহাগড়ে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা মেরে খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে অভিযুক্তরা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মূল লক্ষ্যই ছিল গোটা ঘটনাটিকে একটি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানো, যাতে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া যায়। কিন্তু তদন্তের গভীরে যেতেই পর্দাফাঁস হলো এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের।
