প্রেমিকের সাথে ফোনে কথা বলায় মেয়ের প্রাণ নিলেন বাবা-মা! এক ফোনেই ফাঁস হলো নৃশংস হত্যার রহস্য – এবেলা

প্রেমিকের সাথে ফোনে কথা বলায় মেয়ের প্রাণ নিলেন বাবা-মা! এক ফোনেই ফাঁস হলো নৃশংস হত্যার রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেধের শহরে কন্যার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ফোনে আড়ি পেতে বাবার চরম সিদ্ধান্ত!

উত্তরপ্রদেশের মীরাটে এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যা করেছে তার আপন বাবা ও সৎ মা। মীরাটের গোকুল ধাম কলোনির বাসিন্দা কপিল শর্মা তার মেয়ের ফোনে কথোপকথন নিয়ে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এই নৃশংস ঘটনার পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ, গত ২৬ মে মেয়ের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরিবারের সম্মান রক্ষার অজুহাতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে হাপুরের ব্রজঘাটে তড়িঘড়ি করে মৃতদেহ দাহ করে ফেলা হয়।

একটি ফোন কলই পাল্টে দিল ঘটনার মোড়

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বিষয়টি পুরোপুরি গোপন করতে সক্ষম হবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু কিশোরীর মামা ভূপেন্দ্রর করা একটি ফোন কল তাদের চক্রান্ত ভেস্তে দেয়। ভাগ্নির ফোন বন্ধ পেয়ে তার সন্দেহ হয় এবং তিনি সরাসরি কিশোরীর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে অসংলগ্ন ও রহস্যময় উত্তরে সন্দেহ ঘনীভূত হলে তিনি ভাওয়ানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কপিল ও তার স্ত্রী পিঙ্কি শর্মা পরস্পরবিরোধী বয়ান দিলে সন্দেহ আরও বাড়ে। কঠোর জেরার মুখে শেষপর্যন্ত তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার নেপথ্যে সামাজিক অবক্ষয়

এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে পারিবারিক সন্দেহ এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। সন্তানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরঞ্জিত সন্দেহ এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্য চরম পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে এক অশনিসংকেত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মীরাট এসপি (গ্রামীণ) অভিজিৎ কুমার জানিয়েছেন যে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারের মুখোমুখি হতে চলেছেন অপরাধী পিতা-মাতা, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার আইনি পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *