বন্ধুত্বের আবহেও বাণিজ্য সংঘাতের ইঙ্গিত, নতুন শুল্কের ধাক্কায় বাড়ছে দিল্লি ওয়াশিংটন উদ্বেগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ওপর ফের ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না নয়াদিল্লি। বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদিকে নিজের ‘প্রিয় বন্ধু’ সম্বোধন করলেও মার্কিন অর্থনীতির সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন আইনের ৩০১ ধারাকে হাতিয়ার করে ভারতসহ মোট ৬০টি দেশের ওপর এই শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের বিনিময়ে তৈরি পণ্যের আমদানিতে বাড়তি শুল্ক বসানো উচিত, আর সেই যুক্তি দেখিয়েই ভারতীয় পণ্যের ওপর এই বাড়তি কর চাপানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জট না কাটায় এই পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
বন্ধুত্ব বনাম বাণিজ্যিক স্বার্থের লড়াই
শুল্ক বিতর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং তাঁরা দ্রুত একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করবেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্পের অভিযোগ, এতদিন ধরে ভারত মার্কিন অর্থনীতির অন্যায্য সুযোগ নিয়েছে। মার্কিন পণ্যের ওপর ভারত বিপুল শুল্ক চাপালেও আমেরিকা কোনো কর পায়নি। ট্রাম্পের সাফ কথা, এবার সেই ছবিটা পালটে যাবে এবং আমেরিকা ভারত থেকে প্রচুর টাকা আয় করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বয়ান স্পষ্ট করে দেয় যে, ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গভীর হলেও দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি।
প্রভাব ও কূটনৈতিক তৎপরতা
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই টালমাটাল, তার ওপর আমেরিকার এই নতুন শুল্ক নীতি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বড়সড় লোকসানের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দিল্লির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ৩০১ ধারা কার্যকর করা হবে কিনা তা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী উভয় দেশের মধ্যে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কাজ চলছে, যা এই শুল্ক যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানসূত্র বের করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
