বর্ধমানে কড়া পুলিশ: অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’, গ্রেফতার ১৫০
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/06/purba-bardhaman-news-2026-05-06-20-19-05.jpg)
নতুন সরকারের শপথগ্রহণের আগেই ভোট-পরবর্তী বিক্ষিপ্ত অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মারধর, বাড়ি ও দোকানে হামলার অভিযোগের পাশাপাশি দ্রুত ছড়াচ্ছে গুজব। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল ও পুলিশ সুপার সায়ক দাস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো প্রচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না এবং অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নজরদারি
জেলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ যৌথভাবে ময়দানে নেমেছে। পুলিশ সুপার সায়ক দাসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ঘণ্টায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০টির বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলাজুড়ে চলছে ফ্ল্যাগ মার্চ ও কিউআরটি মোতায়েন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম খোলা রাখা হয়েছে এবং ১৯৫০ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
রাজনৈতিক সৌজন্য ও সম্প্রীতির ছবি
অশান্তির এই আবহের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে রাজনৈতিক সৌজন্যের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। মেমারীতে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক মানব গুহ দখল হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্ড কার্যালয় নিজে উদ্যোগী হয়ে খালি করে দেন এবং চাবি ফিরিয়ে দেন কাউন্সিলর সমীর পাঁজার হাতে। একই ছবি দেখা গেছে আউশগ্রামের গুসকরাতেও, যেখানে বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ভাঙচুর হওয়া তৃণমূল কার্যালয়টি পুনরায় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও বিরোধীদের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন এলাকায় শান্তি ফেরাতে বড় ভূমিকা পালন করছে।
ভাতারেও নবনির্বাচিত বিধায়ক সৌমেন কার্ফা ও প্রাক্তন বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর সৌজন্য সাক্ষাৎ এলাকার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দুই নেতাই। একদিকে প্রশাসনের সক্রিয় টহল এবং অন্যদিকে বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোর এই নজিরবিহীন সৌজন্য— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে পূর্ব বর্ধমানে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দ ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
