বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষায় সাজ সাজ রব বিধানসভায়

বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষায় সাজ সাজ রব বিধানসভায়

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশকের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটে শুরু হতে চলেছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে, যার ফলে আইনিভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকাল সমাপ্ত হয়েছে। আগামী শনিবার, ৯ মে অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা। এই ঐতিহাসিক পালাবদলকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজ ও চরম ব্যস্ততা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে।

প্রস্তুতির তুঙ্গে বিধানসভা ভবন

শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে শতাব্দীপ্রাচীন বিধানসভা ভবনটি নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ধুলোবালি ঝেড়ে দেওয়াল পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ছোটখাটো মেরামতির কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। যদিও ভবনের আনাচে-কানাচে এখনো বিগত সরকারের বাজেট বই কিংবা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামফলক রয়ে গিয়েছে, তবে সেগুলো সরিয়ে নতুন নামফলক বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

অস্থায়ী সচিবালয় ও প্রশাসনিক তৎপরতা

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ সংস্কার করে পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী করার আগে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা থেকেই রাজ্য পরিচালনা করবেন। এই লক্ষ্যে বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসের সঙ্গে মুখ্যসচিবের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়েই মুখ্যমন্ত্রীর নতুন সচিবালয় গড়ে তোলা হবে। শনিবার শপথ গ্রহণের পর সোমবার থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী এখান থেকে দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক বিবর্তন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

এই বিধানসভা ভবনটি বাংলার রাজনীতির বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী। কংগ্রেস আমল থেকে শুরু করে বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং পরবর্তী তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন—সবই পরিচালিত হয়েছে এই চত্বর থেকে। এবার ‘গেরুয়া ঝড়ে’র হাত ধরে রাজ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, তার ফলে বিধানসভার রেকর্ড বুকেও যোগ হতে চলেছে নতুন ইতিহাস। প্রশাসনিক এই রদবদল কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের নীতি-নির্ধারণী কাঠামোতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *