বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে খুন, টাকি রোডের পুকুরপাড়ে উদ্ধার মরদেহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 11, 20269:33 am
উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে এক টোটোচালকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত বুধবার মাঝরাতে একটি ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ৩২ বছর বয়সি সঞ্জীব দাস। পরদিন বারাসাতের বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শাসনের গোলাবাড়ি এলাকায় টাকি রোডের পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফোনের সূত্র ধরে দেহ উদ্ধার
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ১১টা নাগাদ সঞ্জীবের মোবাইলে একটি কল আসে। ফোনটি পাওয়ার পরেই তিনি নিজের টোটোটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সারা রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনেরা বারবার তাঁর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওপার থেকে কেউ ফোন তোলেনি।
পরবর্তী সময়ে বারাসাত থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে শাসন থানা এলাকার গোলাবাড়িতে সঞ্জীবের ফোনের সন্ধান পায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পুকুরপাড় থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাঁকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুনের নেপথ্যে ছিনতাই নাকি রাজনৈতিক কারণ?
ঘটনার পর থেকেই নিহতের টোটোটি নিখোঁজ। তাই ধারণা করা হচ্ছে, টোটো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে নির্জন জায়গায় ডেকে এনে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, নিহতের দাদা তপন দাসের দাবি, তাঁরা বিজেপি সমর্থক হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক শত্রুতাও থাকতে পারে।
পুলিশ সুপার জে. মারসি জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। সঞ্জীবের মোবাইলের শেষ ফোন কলটি কার ছিল তা জানতে কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
