‘বিজেপির ইশারায় চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অবাধে হচ্ছে রিগিং!’— ভবানীপুরে বুথে বুথে ঘুরে তোপ মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজনৈতিক আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের মর্যাদাপূর্ণ ভবানীপুর কেন্দ্রে আজ সকালে ভোট চলাকালীন বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দাগলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, বহিরাগতরা এলাকায় ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াই
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রথা ভেঙে সকালেই ভোট ময়দানে নেমে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বুথে বুথে ঘোরেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কি ‘গুন্ডারাজ’ চলছে? তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি নিজে সারারাত জেগে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন এবং কমিশন অবাধ ভোট নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি
এই দফার নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যা তৃণমূলের চিরাচরিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এবারের লড়াইয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন রাখা হলেও শাসকদল ও বিরোধী দলের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই লড়াই কেবল একটি আসনের নয়, বরং এটি আত্মমর্যাদার লড়াই। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের হারের স্মৃতি উসকে দিয়ে বিজেপি যেখানে জয়ের দাবি করছে, সেখানে তৃণমূল শিবিরের দাবি, তারা গতবারের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।
এক ঝলকে
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি ও যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
- ভবানীপুর কেন্দ্রে মর্যাদার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস পূর্বের রেকর্ড ভেঙে বিপুল আসন নিয়ে জয়ী হবে।
- দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে আজ কড়া নিরাপত্তায় শেষ দফার ভোটগ্রহণ চলছে এবং আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
