বিশ্বজুড়ে তোলপাড়! ট্রাম্পের এক দাবিতেই কাঁপছে ইরান, হাত মেলাল আমেরিকা-চীন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তিন দিনের চীন সফরে গিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে মধ্যস্থতা করতে রাজি হয়েছে বেইজিং। সফরের আগে ইরান ইস্যুতে চীনের সাহায্য নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও, বৈঠকের পর ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেল ভিন্ন সুর। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, শি জিনপিং নিজে থেকেই এই সংকট সমাধানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তেল ও অস্ত্র নিয়ে গোপন সমঝোতা
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। আলোচনায় উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ইরান থেকে তেল কেনার অনুমতি দিতে পারে, তবে তার বিনিময়ে কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, চীন ইরান থেকে তেল কিনলেও দেশটিকে কোনো প্রকার মারণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে না। এছাড়া ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে না পারে, সেই বিষয়েও একমত হয়েছে দুই পরাশক্তি। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব
বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল হরমুজ প্রণালী। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অচল থাকায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি হুমকির মুখে। ট্রাম্প ও জিনপিং উভয়েই একমত হয়েছেন যে, বিশ্বকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে হরমুজ প্রণালী দ্রুত উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। চীনের এই অবস্থান পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বেইজিং ও ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন ঐক্য যদি ইরান যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তার জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
