বৌদির ‘গোপন’ মেসেজ পেয়েই ছুটে গিয়েছিল দেওর, মাঝরাস্তায় যে ভয়ঙ্কর পরিণতি হলো শুনলে শিউরে উঠবেন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বল্লারি: বৌদির ফোন থেকে আসা একটা গোপন মেসেজ। আর সেই মেসেজের লোভেই রাতে হন্যে হয়ে ছুটে গিয়েছিল দেওর। কিন্তু সেখানে যে তার জন্য চরম মৃত্যুদূত অপেক্ষা করছে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। কর্নাটকের বল্লারি জেলার মোকা থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা দেখে খোদ পুলিশ অফিসারদেরও চোখ কপালে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি বছর সাতাশের যুবক বসনগৌড়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পরের দিনই বল্লারির এলএলসি খালের পাশ থেকে ওই যুবকের অর্ধেক পুড়ে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে মেলে তাঁর বাইক ও জুতো। কিন্তু কে বা কারা এই যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল? রহস্য উদঘাটন করতে যুবকের ফোনের কল রেকর্ড ঘাঁটতেই বেরিয়ে আসে এক হাড়হিম করা সত্যি!
বৌদির ওপর কুদৃষ্টি এবং ব্ল্যাকমেইল:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বসনগৌড়কে খুন করেছে অন্য কেউ নয়, তাঁর নিজের দাদা দোদবসনগৌড়, বৌদি শ্বেতা এবং বৌদির ভাই সতীশ। কয়েক মাস আগে বৌদি শ্বেতার সাথে আলাপ হওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের সব মর্যাদা ভুলে তাঁর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল দেওর বসনগৌড়। প্রতিনিয়ত বৌদির হোয়াটসঅ্যাপে নোংরা মেসেজ এবং অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব দিত সে। শ্বেতা বারবার বারণ করা সত্ত্বেও নিজের স্বভাব বদলায়নি দেওর।
ফাঁদ পাতল বৌদি ও দাদা:
দেওরের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্বেতা। স্বামী ও ভাইকে জানান পুরো বিষয়টি। এরপরই দেওরকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর ছক কষেন তাঁরা। পরিকল্পনা মাফিক, গত ৭ জুন শ্বেতার ফোন থেকে বসনগৌড়কে মেসেজ পাঠানো হয়— ‘একান্তে দেখা করতে চলে এসো’।
বৌদি নিজেই ডেকেছে ভেবে খুশিতে আত্মহারা হয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ছুটে যায় দেওর। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দাদা ও শ্যালক। দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে দাদাই খুন করে নিজের ভাইকে। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ খালের পাড়ে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিজের ভাইয়ের কাম লালসার এমন নৃশংস পরিণতি দেখে স্তম্ভিত গোটা কর্নাটক। অপরাধী স্বামী, স্ত্রী ও শ্যালক— তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
