ব্যাট-বলের লড়াইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ভারসাম্য, ব্যাটারদের দাপট কমাতে সচিনের ৩ দাওয়াই – এবেলা

ব্যাট-বলের লড়াইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ভারসাম্য, ব্যাটারদের দাপট কমাতে সচিনের ৩ দাওয়াই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাট এবং বলের চিরাচরিত ভারসাম্য কি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে? কিছুদিন আগেই এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। এবার প্রাক্তন সতীর্থের সুরে সুর মিলিয়ে বোলারদের অসহায়তা এবং ক্রিকেটের একপেশে রূপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর। আইপিএলের চলতি মরসুমে যেভাবে একের পর এক ম্যাচে দুশোর বেশি রান উঠছে এবং বোলাররা যেভাবে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছেন, তা দেখে ক্রিকেট খেলায় ভারসাম্য ফেরানোর জন্য আইসিসির কাছে বড় ধরনের নিয়ম বদলের তিনটি জোরালো প্রস্তাব দিয়েছেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।

মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সচিন স্পষ্ট জানান, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় রাখতে হলে এখনই কিছু নিয়মের সংস্কার প্রয়োজন। বোলারদের ওপর থেকে লাগাতার চাপ কমাতে তাঁর দেওয়া তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম বাতিল করা, পাওয়ারপ্লের কাঠামোতে বদল আনা এবং দলের সেরা বোলারকে অতিরিক্ত এক ওভার বল করার অনুমতি দেওয়া।

নিশানায় ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার এবং পাওয়ারপ্লে বদলের ছক

সচিনের মতে, আইপিএলের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মটি ক্রিকেটের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই নিয়মের ফলে দলগুলো আট বা নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়ে নিতে পারছে, যা ব্যাটারদের অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে খেলার লাইসেন্স দিচ্ছে। এর ফলে বোলারদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই এই নিয়মটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, পাওয়ারপ্লের বর্তমান নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন সচিন। বর্তমানে প্রথম ছয় ওভারে মাত্র দু’জন ফিল্ডার বৃত্তের বাইরে থাকতে পারেন। সচিনের দাওয়াই হলো, এই ছয় ওভারকে দুই ভাগে ভাগ করা হোক। প্রথম চার ওভার প্রথাগত পাওয়ারপ্লে হিসেবে চললেও, বাকি দুই ওভার কখন নেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত থাকবে ফিল্ডিং অধিনায়কের হাতে। ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতিতে অধিনায়ক সেই দুই ওভার ব্যবহার করতে পারবেন, যা খেলায় নতুন কৌশলগত মাত্রা যোগ করবে।

সেরা বোলারের জন্য অতিরিক্ত ওভারের প্রস্তাব

বোলারদের শক্তি বাড়াতে সচিনের তৃতীয় এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো, দলের সেরা বোলারকে সর্বোচ্চ চার ওভারের পরিবর্তে পাঁচ ওভার বল করার অনুমতি দেওয়া। তাঁর যুক্তি, একজন শীর্ষ সারির ব্যাটার যদি পুরো ২০ ওভার ক্রিজে থেকে ব্যাট করতে পারেন, তবে দলের সেরা বোলার কেন অতিরিক্ত এক ওভার বল করার সুযোগ পাবেন না? এই নিয়ম চালু হলে বোলাররা ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বাড়তি অস্ত্র পাবেন।

চলতি আইপিএলে যেভাবে আড়াইশো বা তারও বেশি রানের পাহাড় তৈরি হচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে সচিনের এই বিশ্লেষণধর্মী প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে এই ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা তেন্ডুলকরের এই তিন দাওয়াইকে কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *