ভল্লুক থেকে সোনালী খেঁকশিয়ালের ডেরা, এবার কনজারভেশন রিজার্ভ হচ্ছে কোটশিলা-ঝালদা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুরুলিয়ার কোটশিলা ও ঝালদা বনাঞ্চল এবার পেতে চলেছে ‘কনজারভেশন রিজার্ভ’-এর মর্যাদা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সোমবারই কলকাতার অরণ্যভবনে জমা পড়ছে এর বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর)। গড় পঞ্চকোটের পর এটি হতে চলেছে পুরুলিয়া জেলার দ্বিতীয় কনজারভেশন রিজার্ভ। কোটশিলা ও ঝালদা ১ বনাঞ্চলের সিমনি, নোয়াহাতু ও কলমা বিট জুড়ে প্রায় ৪,৩৮৩ হেক্টর এলাকাকে এই রিজার্ভের আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর পুরুলিয়া বনবিভাগ এই মেগা প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে।
বন্যপ্রাণের সমৃদ্ধ ডেরা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
কোটশিলা ও ঝালদা বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বনদপ্তরের ক্যামেরা ট্র্যাপে এখানে বারবার ধরা পড়েছে চিতা বাঘ, শ্লথ বিয়ার বা ভল্লুক, দুঃসাহসিক হানি ব্যাজার, পেঙ্গোলিন, চিতল হরিণ ও সোনালী খেঁকশিয়ালের মতো নানা বন্যপ্রাণী। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ থেকে আসা হাতির দলও এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। সম্প্রতি পালামৌ ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাঘের গতিবিধির সঙ্গে এই অঞ্চলের সংযোগ তৈরি হওয়ায় জাতীয় স্তরেও এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত এই বিপুল বন্যপ্রাণী সম্পদ রক্ষা, চোরাশিকার রোধ এবং বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ পর্যটন ও স্থানীয় জীবিকায় নতুন দিগন্ত!
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় ইকো-সিস্টেম এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। জমা পড়তে চলা ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্টে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় থার্মাল ড্রোন, নাইট ভিশন ড্রোন, আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ এবং একাধিক ওয়াচ টাওয়ারের পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। বন্যপ্রাণীদের প্রাকৃতিক নিরাময়ের জন্য জঙ্গলে বিভিন্ন ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকা নিশ্চিত করতে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম, হোম-স্টে, পক্ষী নিরীক্ষণ কেন্দ্র এবং লাক্ষা চাষের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে অরণ্য সুরক্ষায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ায় মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের আশঙ্কাও অনেকাংশে কমে আসবে।
