ভাগ্নিকে খাওয়ানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে মামার জঘন্য কাজ, শেষে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা!
উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস অপরাধের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজেরই মামার বিরুদ্ধে। এই ঘটনা গাজিয়াবাদের টিলা মোড় এলাকায় এক ভয়াবহ শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। পরিবারের বিশ্বাসকে পুঁজি করে কীভাবে এমন অন্ধকার অপরাধ সংগঠিত হতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত।
বিশ্বাসভঙ্গের এক চরম নিদর্শন
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার দুপুরের দিকে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়ার সুবাদে শিশুটির মামা তাকে খেলার ছলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় শিশুটির পরিবার অভিযুক্তকে বিশ্বাস করেছিল, তাই কোনো সতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি। কিন্তু সন্ধ্যা গড়ানোর পরও শিশুটির কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দানা বাঁধে। এ সময় মামার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যদের দিক বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
মধ্যরাতে উদ্ধার নিথর দেহ
নিখোঁজ হওয়ার পর রাত ১২টা নাগাদ তল্লাশি চালানোর সময় ৮০ ফুট রোডের পাশে একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা গাড়ির নিচ থেকে শিশুটির নিথর দেহ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় এক মাস আগে গাজিয়াবাদে কাজে এসেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিনের মাদকাসক্ত। নেশার ঘোরেই সে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
অভিযুক্তের অতীত ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের ব্যক্তিগত জীবনে চরম অস্থিরতা ছিল। অতীতে নিজের শ্বশুরবাড়ি এবং আত্মীয়দের সঙ্গে একাধিকবার বিবাদে জড়িয়েছিল সে। তার ক্রমাগত মাদকাসক্তির কারণে দিদির পরিবার তাকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেছিল। বাধ্য হয়ে সে আলাদা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিল এবং গত এক মাস ধরে ভগ্নীপতির এলাকায় কাজের জন্য আসা-যাওয়া করছিল। চারিত্রিক অস্থিরতা এবং আসক্তি ঘটিত এই পারিবারিক পটভূমিই সম্ভবত এই নৃশংসতার নেপথ্যে কাজ করেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
শালিমার গার্ডেন এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, শিশুটির পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শিশুটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট বা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আইনত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: টিলা মোড়, গাজিয়াবাদ, উত্তরপ্রদেশ।
- শিকার: চার বছর বয়সী এক কন্যা শিশু।
- অভিযুক্ত: শিশুটির নিজের মামা, যে বর্তমানে পলাতক।
- অপরাধের প্রকৃতি: অপহরণ, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন এবং অপরাধ লুকাতে দেহ ফেলে রাখা।
- পুলিশি পদক্ষেপ: মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে জোরদার তল্লাশি চলছে।
