ভুয়ো নামের ছড়াছড়ি, কৃষক বন্ধু ও বাংলা শস্য বিমার তালিকা এবার আতশ কাচের তলায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের কৃষকদের জন্য চালু থাকা দুটি প্রধান জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘কৃষক বন্ধু’ এবং ‘বাংলা শস্য বিমা’ এবার কড়া নজরদারির আওতায় আসছে। তালিকায় থাকা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুরো প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানান, স্বচ্ছতা ফেরানোর স্বার্থে এই প্রকল্পগুলির উপভোক্তা তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ঝাড়াই-বাছাই করা হবে এবং অনেককেই নতুন করে আবেদন করতে হবে।
নতুন করে আবেদন ও ঝাড়াই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত
কৃষিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, অতীতে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেমন ভুয়া নাম বাদ দিতে নতুন করে ফর্ম পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এক্ষেত্রেও সেই পথেই হাঁটা হচ্ছে। কৃষক বন্ধুর তালিকায় প্রচুর ভুয়ো নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যাঁরা শুধুমাত্র ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের তালিকাভুক্ত, তাঁদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে নতুন করে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের এই দুটি প্রকল্পকে পুরোপুরি কেন্দ্রের সমতুল্য প্রকল্পে রূপান্তরিত করা হবে। এর মধ্যে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পকে ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি’ এবং ‘বাংলা শস্য বিমা’কে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’-র অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সার সংকট ও পঞ্চায়েত স্তরে নজরদারি
তালিকাগত সংস্কারের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনতে আরও বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চাষের মরসুমে সারের কালোবাজারি রুখতে এবং কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে বীজ পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পঞ্চায়েত স্তরে গণ-ইস্তফার যে হিড়িক দেখা গিয়েছিল, সে বিষয়েও বার্তা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির রেকর্ড নেই, তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী আড়াই বছর তাঁদের সঙ্গেই কাজ করবে সরকার। তালিকায় থাকা ভুয়ো নাম চিহ্নিত করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
