ভোটগণনায় কারচুপির আশঙ্কা, এজেন্টদের জন্য মমতা-অভিষেকের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ

ভোটগণনায় কারচুপির আশঙ্কা, এজেন্টদের জন্য মমতা-অভিষেকের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ

সোমবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ফলাফল ঘোষণার আগে নিজেদের সংগঠনকে চূড়ান্ত সজাগ রাখতে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। সম্ভাব্য অনিয়ম বা ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা মাথায় রেখে দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য নজিরবিহীন সতর্কবার্তা ও নির্দেশ জারি করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে এজেন্টদের রণকৌশল বুঝিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, তৃণমূল এবার ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে।

গণনাকেন্দ্রে সতর্কতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজেন্টদের ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত সুরক্ষার খাতিরে তিনি এজেন্টদের বাইরের কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন, কারণ তাতে অনিষ্টকর কিছু মিশিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া, শৌচাগারে বা খাবার খেতে যাওয়ার সময় নিজের টেবিলে একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত প্রতিনিধিকে বসিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমি নিজে প্রেস কনফারেন্স করে চূড়ান্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং টেবিল ছাড়বেন না।”

কারচুপি ও প্রযুক্তিগত জালিয়াতি রুখতে কৌশল

নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা ডেটা অপারেটরদের একাংশকে ‘বিজেপি মানসিকতাসম্পন্ন’ বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর আশঙ্কা, জয়ী প্রার্থীকেও কম্পিউটারে তথ্য এন্ট্রির সময় পরাজিত হিসেবে দেখানো হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে ইভিএম বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন। এজেন্টদের বলা হয়েছে, সামান্য সময়ের জন্য লোডশেডিং হলেও যেন সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হয়। ইভিএমের ব্যাটারি চার্জ যদি ৭০ শতাংশের কাছাকাছি থাকে, তবে অবিলম্বে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্টিফিকেট ও পুনর্গণনার দাবি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এজেন্টদের কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, জয়ী হওয়ার পর চূড়ান্ত শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। গণনার গতি শ্লথ করা বা সামান্য ব্যবধানে বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তৎক্ষণাৎ পুনর্গণনার (Recounting) আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে সরাসরি সেখানে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গণনার দিন এক চুল জমিও ছাড়তে রাজি নয় ঘাসফুল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *