মমতার ওপর গর্জে উঠলেন হিমন্ত এবং থানায় মামলা নিয়ে শুরু চরম সংঘাত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি জলপাইগুড়িতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হিমন্ত সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূলের কোনো রকম ‘গুণ্ডামি’ তিনি সহ্য করবেন না। নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান দুই রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
আইনি লড়াই ও কড়া হুঁশিয়ারি
তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে করা মামলার প্রেক্ষিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি সরাসরি বলেন, “বাংলায় যদি থানা থাকে, তবে আসামেও পুলিশ আছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, সংঘর্ষ সমান তালে হবে এবং আক্রমণ হলে তার দ্বিগুণ প্রতাপে জবাব দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যাকার লড়াই এখন কেবল জনসভার বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আইনি ও প্রশাসনিক দাপটের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
মিথ্যাচার ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ
বক্তব্য চলাকালীন হিমন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তোলেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে—তৃণমূল নেত্রীর এমন দাবির জবাবে তিনি তাঁকে খাওয়ার প্রতিযোগিতায় বসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। পাশাপাশি তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ূন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ ধরে তিনি সাম্প্রদায়িক সুর চড়িয়ে বলেন, এই ধরণের কাজ আসামে করলে তিনি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতেন। রাম বা দুর্গার নাম না নিয়ে কেবল বিরোধীদের নাম জপ করার জন্য তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদ্রূপ করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্থিরতা
এই ধরণের বাগযুদ্ধ দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে সীমানা সংক্রান্ত এবং আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে আসাম ও বাংলার মধ্যে যে ভারসাম্য রয়েছে, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিমন্তর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি উত্তরবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে মেরুকরণ তৈরির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি ব্যালট বাক্সে পড়তে পারে।
এক ঝলকে
- নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে ক্ষুব্ধ হিমন্ত মমতা সরকারকে প্রশাসনিক পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- মাছ-মাংস নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে তৃণমূলের দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে খাওয়ার প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ জানান।
- বিতর্কিত সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে ধর্মীয় মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
- দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সংঘাত বাংলার নির্বাচনী আবহে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
