‘মানুষের সেবা করাই মূল ধর্ম’, পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে ট্রোলারদের জবাব কোয়েলের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার রাজ্যসভা সদস্যপদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা তাঁর। বিজেপিতে যোগ দিয়েই দলীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
‘উন্নয়ন ও জনসেবাই মূল লক্ষ্য’ পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে কোয়েল বলেন, “উচ্চকক্ষের (রাজ্যসভা) সদস্য হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটি একটি বড় দায়িত্ব। দেশের মানুষের সেবা ও কল্যাণ করাই আমার আসল কাজ। একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম পেলে কাজ করার ক্ষমতা এবং পরিধি অনেক বেড়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ, তাঁরা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন।”
বাংলায় কাজের সুযোগ বাড়ানো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো পড়াশোনা করেও সুযোগের অভাবে বাইরে চলে যায়। আমি চাই তারা এখানেই থাকুক, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ুক এবং বাংলার প্রতিটি মানুষ সুখে থাকুক।”
দলবদল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট চলতি বছরের এপ্রিলে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তবে ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে। গত ১৬ জুলাই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর বিজেপির প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রাক্তন দল নিয়ে বিতর্ক এড়ালেন কোয়েল তৃণমূল ছাড়া নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি কোয়েল। তাঁর বক্তব্য, “দুটি ভিন্ন মতাদর্শের দল। প্রতিটি দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভালো কাজ করার চেষ্টা করে। আমার কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম মনুষ্যত্ব। এখন এমন একটি দলে যুক্ত হতে পেরে গর্বিত, যেখানে উন্নয়নমূলক কাজ প্রাধান্য পাচ্ছে।”
সোশাল মিডিয়ার কটাক্ষ ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দলবদলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় মিম ও কটাক্ষ ছড়ালেও তা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি। সাইকোলজির ছাত্রী কোয়েল তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, “অন্যকে ছোট বা অপমান করে যারা মানসিক আরাম পায়, তা তাদের ভেতরের ক্ষোভ থেকেই আসে। তারা নিজেরা সুখে থাকলে অন্যকে অপমান করত না। আমি তাদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি। কারও সম্পর্কে খারাপ না বলে, সবার কাছে আশীর্বাদ চাই যেন দেশের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।”
