মাসে ১০ হাজার টাকা জমিয়েই হওয়া যায় কোটিপতি, জেনে নিন দ্রুত ১ কোটির ফান্ড তৈরির জাদুকরী ফর্মুলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান বাজারে দাঁড়িয়ে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা আর বাস্তবায়িত হয় না। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ম মেনে মিউচুয়াল ফান্ডে একটি এসআইপি (SIP) বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান শুরু করতে পারলে কোটিপতি হওয়া কোনো অলীক কল্পনা নয়। মাত্র ১০,০০০ টাকার মাসিক এসআইপি-র হাত ধরেই অনায়াসে তৈরি করে ফেলা সম্ভব ১ কোটি টাকার বিশাল ফান্ড। এর জন্য বিনিয়োগকারীদের মানতে হবে একটি সহজ আর্থিক ফর্মুলা, যার নাম ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’।
স্টেপ-আপ এসআইপি এবং কোটিপতি হওয়ার অঙ্ক
এই বিশেষ উপায়ে কোটিপতি হতে গেলে শুরুটা করতে হবে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা দিয়ে। এরপর প্রতি বছর নিজের উপার্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই এসআইপি-র রাশিতে ১০% হারে বাড়াতে বা ‘টপ-আপ’ করতে হবে। অর্থাৎ, প্রথম বছর যদি মাসিক এসআইপি ১০,০০০ টাকা হয়, তবে দ্বিতীয় বছরে তা করতে হবে ১১,০০০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে জমার পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,১০০ টাকা। দীর্ঘমেয়াদী এই বিনিয়োগে যদি গড়ে বার্ষিক ২০% হারে রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যেই ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করা সম্ভব।
হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ৫ বছর পর মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৪,৬০০ টাকা এবং মোট ফান্ডের অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলবে প্রায় ১৪ লক্ষ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। ১০ বছর পার হওয়ার পর মাসিক এসআইপি-র পরিমাণ গিয়ে পৌঁছাবে প্রায় ২৩,৫০০ টাকায় এবং মোট জমানো ফান্ড দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ লক্ষ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা। ঠিক ১৪ বছর পূর্ণ হতেই মাসিক জমার পরিমাণ যখন প্রায় ৩৮,০০০ টাকা ছোঁবে, তখন মোট সংগৃহীত ফান্ডের পরিমাণ পৌঁছে যাবে ম্যাজিক ফিগার অর্থাৎ ১ কোটি টাকায়।
কম্পাউন্ডিংয়ের ক্ষমতা ও বাজারের ঝুঁকি
এই ১৪ বছরে ১ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করতে বিনিয়োগকারীর পকেট থেকে মোট বিনিয়োগ হবে মাত্র ৩৮ লক্ষ থেকে ৪২ লক্ষ টাকা। বাকি বিপুল অঙ্কের টাকা আসবে ফিন্যান্সের আসল ব্রহ্মাস্ত্র ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদের ক্ষমতার মাধ্যমে। আনুমানিক ২০% রিটার্ন এবং কম্পাউন্ডিংয়ের যুগলবন্দিতেই জমানো পুঁজি একধাক্কায় কোটির ঘরে পৌঁছে যায়। অতীতেও বেশ কিছু নামী ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগকে কোটিতে বদলে দিয়েছে।
তবে এই সহজ মন্ত্রের পাশাপাশি কিছু জরুরি সাবধানতাও মাথায় রাখা দরকার। শেয়ার বাজার বা ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে রিটার্নের কোনো বাঁধা-ধরা গ্যারান্টি থাকে না। এই ২০% রিটার্নের হিসাবটি সম্পূর্ণ একটি অনুমান মাত্র। বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে আসল রিটার্ন কম বা বেশি হতেই পারে, কারণ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ সর্বদা বাজারগত ঝুঁকির অধীন। তাই যে কোনো ফান্ডে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে একজন প্রত্যয়িত আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে টিকে থেকে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখলে কম্পাউন্ডিংয়ের আসল সুবিধা ভোগ করা সম্ভব।
