মুখের প্রশংসাতেই ম্যাজিক, প্রথম দিনের ব্যর্থতা ভুলে বক্স অফিসে ঝড় তুলল ইমতিয়াজের নতুন ছবি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোনো চটকদার বিজ্ঞাপনী প্রচার ছিল না, ছিল না প্রথম দিনে বক্স অফিস কাঁপানো ব্যবসার রেকর্ড। কিন্তু মুক্তির এক সপ্তাহ পেরোতেই সব হিসেবনিকেশ ওলটপালট করে দিল পরিচালক ইমতিয়াজ আলির নতুন সিনেমা ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিটির প্রতি দর্শকদের বাঁধভাঙা ভালোবাসা দেখে খোদ পরিচালকও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রথম দিনের ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসা ভুলে কেবল দর্শকদের মুখের প্রশংসার (ওয়ার্ড অফ মাউথ) জোরেই এখন প্রেক্ষাগৃহগুলোতে উপচে পড়ছে ভিড়।
সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালক ইমতিয়াজ আলি জানান, মুক্তির প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবির আয় এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বিষয়টিকে একপ্রকার অলৌকিক বা ‘মিরাকেল’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। নাসিরুদ্দিন শাহ, দিলজিৎ দোসাঞ্জ, বেদান্ত রায়না এবং শর্বরীর মতো একঝাঁক তারকা অভিনীত এই সিনেমাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিপাড়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান পরিচালক শেখর কাপুর, সুভাষ ঘাই থেকে শুরু করে রানি মুখার্জি, দিয়া মির্জা ও আয়ুষ্মান খুরানার মতো তারকারাও ছবিটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
সাফল্যের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারণ ছবির শক্তিশালী গল্প এবং দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। মুক্তির প্রথম দিনে ব্যবসা মন্দা হলেও, যাঁরা ছবিটি দেখেছেন তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং পরিচিতদের মাঝে সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কোনো বড় বিজ্ঞাপনী চমক ছাড়াই কেবল গল্পের জোরে একটি সিনেমা কীভাবে বক্স অফিসে সফলতার নতুন সংজ্ঞা লিখতে পারে, ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ তার অন্যতম উদাহরণ হয়ে রইল।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছবির সাফল্য বলিউডে কনটেন্ট-নির্ভর সিনেমার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। বড় বাজেটের বা প্রচারসর্বস্ব সিনেমা ছাড়াও যে কেবল ভালো গল্পের ওপর ভিত্তি করে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানা সম্ভব, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ইমতিয়াজের এই ছবির সাফল্য আগামী দিনে ভিন্নধর্মী ও ইতিহাস-ভিত্তিক গল্প নিয়ে কাজ করার জন্য অন্যান্য নির্মাতাদেরও সাহস জোগাবে।
