মুখ্যমন্ত্রীর মুখেই আর জি করের ন্যায়বিচারের আশ্বাস, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভয়ার মা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভায় এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন জনপ্রতিনিধিরা। “আর জি করের বিচার হবে”, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম জবাবি ভাষণে এমন স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি শুনেই বিধানসভা কক্ষে কেঁদে ফেলেন জলহাটির বর্তমান বিধায়িকা তথা মৃত তরুণী চিকিৎসকের মা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
কড়া পদক্ষেপ ও জিরো টলারেন্স নীতি
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত নতুন করে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভয়া, তামান্না-সহ রামপুরহাট, হাঁসখালি, কামদুনি এবং ধূপগুড়ির মতো সমস্ত মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে ইতিমধ্যেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দীপ ঘোষদের মতো আধিকারিকদেরও অপসারণ করা হয়েছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনের এই দ্রুত রদবদল এবং তদন্তের পুনরুজ্জীবন আর জি কর কাণ্ডে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড হওয়া দুই ডিসি-কে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। পূর্বতন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশকে মেসেজ বা ফোনে কোনো নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকেও তলব করা হয়েছে। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ অপরাধীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করার পাশাপাশি, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের আপসহীন মনোভাবের একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
